মিশন হাসপাতালের সামনে ভাগাড় নির্মাণে বাঁধা

  • 21
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালের সামনে একটি ভাগাড় নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এই সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করছে। সোমবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তা দেখে এলাকাবাসী ও মিশন হাসপাতালের পক্ষ থেকে বাঁধা দেয়া হয়েছে।

তবে পুলিশ নিয়ে গিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিকাদার। নগরীর চণ্ডিপুর এলাকায় এখন যেখানে এসটিএস নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে রাস্তার ধারে আগে থেকেই বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলে রাখা হতো। পরিচ্ছন্নকর্মীরা দিনভর গোটা মহল্লার ময়লা এনে এখানে জমা করতেন। রাতে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে ময়লা তুলে নগরীর উপকণ্ঠ সিটিহাট এলাকায় ভাগাড়ে ফেলা হতো।

এখন ওই স্থানটিতে স্থায়ী ভাগাড় নির্মাণ করা হচ্ছে। রাসিক বলছে, জায়গাটি তাদের। তাই তাঁরা এসটিএস নির্মাণ করছেন। আর মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অস্থায়ী ভাগাড়টিই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছিলেন। এখন সেখানে স্থায়ী ভাগাড় করা হচ্ছে। এতে তাঁদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাঁরা এখানে ভাগাড় চান না।

এসটিএস নির্মাণ করতে সোমবার সকালে শ্রমিকেরা গিয়ে একটি কৃষ্ণচূড়ার গাছ কেটে ফেলেন। পরে খোড়াখুড়ি শুরু হয়। তখন মিশন হাসপাতালের কর্মকর্তা এবং নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা গিয়ে বাঁধা দেন। তখন শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে ঠিকাদার মামুনুর রশীদ বাচ্চু গিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ যায়। দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে কাজ চলছিল। মিশন হাসপাতালের কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁরা কাজ বন্ধের দাবি জানাচ্ছিলেন।

নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সঙ্গীতা বিশ্বাস বলেন, ‘এই ভাগাড়ের সামনে আমাদের আবাসিক রুম। এখানে আমরা থাকি। দুর্গন্ধে খেতে পারি না। জানালা খুলতে পারি না। আমরা এখানে ভাগাড় চাই না।’

ঘটনাস্থলে মিশনের রাজশাহী ডিনারির অঞ্চল পালক রেভারেন্ড দানিয়েল মণ্ডলও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সামনে আমাদের নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। পাশে হাসপাতাল। এখানে ভাগাড়ের দুর্গন্ধে টেকা যায় না। আবাসিক কোয়ার্টারে ১০০ মেয়ে থাকে। তাঁদের ভীষণ কষ্ট হয়। পাশেই আমাদের অধ্যক্ষের কার্যালয়। তিনিও বসতে পারেন না। একটু দূরে গীর্জা। সেখানেও দুর্গন্ধ পৌঁছে যায়। তাই আমরা এটি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। অন্তত হাসপাতালের সামনে তো কোন ভাগাড় হতে পারে না।’

এসটিএস নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার করিম। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী শহর সুন্দর। মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন শহরটাকে সুন্দরভাবে সাজাচ্ছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের কিছু কিছু অদক্ষ কর্মকর্তা বিতর্কিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে জনভোগান্তি তৈরি করছেন। এটা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বাড়িতে বসে খেতে পারি না। দুর্গন্ধে বমি চলে আসে। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। এই ভাগাড়টিই আমরা অন্যত্র সরানোর দাবি জানাচ্ছিলাম। এখন আবার এখানেই স্থায়ী ভাগাড় করা হচ্ছে।’

নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মামুনুর রশীদ বাচ্চু বলেন, ‘আমার তো কিছু যায় আসে না। জনগণ বাঁধা দিয়েছে, আমি সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছে। প্রকৌশলী এসেছেন। এসটিএস হবে কিনা সেটা তিনিই দেখবেন।’

রাসিকের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজিবুর রহমান বলেন, ‘এই জায়গাটি সিটি করপোরেশনের। তাই যা প্রয়োজন তা সিটি করপোরেশন নির্মাণ করতে পারে। ২৫ লাখ টাকায় এসটিএস নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এসটিএস তো খোলা ভাগাড় নয়। তাই দুর্গন্ধ ছড়াবে না। সারাদিন এখানে ময়লা মজুত করে রাতে ভাগাড়ে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ