মা-বাবা-দুই বোনের দাফন শেষে অকূল পাথারে শিশু মিম!

  • 1
    Share

অনলাইন ডেস্ক: মাদারীপুরের শিবচরে পুরাতন কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের ধাক্কায় নিহত খুলনার একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত মনিরের মায়ের পাশে সারিবদ্ধভাবে তাদের দাফন করা হয়েছে।

রোববার রাতে নানির মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তাকে দেখতে পরিবারের সব সদস্য স্পিডবোটে করে তে‌রোখাদার পা‌রোখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে দুর্ঘটনায় মারা যায় মিম ছাড়া সবাই।

এসময় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জামাল, তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম, যুবলীগের আহ্বায়ক মো. শফিকুর রহমান পলাশ, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এফএম অহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিহতরা হ‌লেন- তে‌রোখাদার পা‌রোখালী এলাকার ম‌নির শিকদার, তার স্ত্রী হেনা বেগম, শিশু কন্যা সু‌মি ও রু‌মি খাতুন।

৫ সদস্যের পরিবারটির একমাত্র সন্তান হিসেবে জীবিত আছে বড় মেয়ে ৮ বছরের মিম। মা-বাবা ও বোনদের হারিয়ে বেঁচে থাকা মিম যেন অকূল পাথারে পড়েছে। পরিবারে এখন আর কেউ নেই তার।

মা-বাবা, দুই বোনকে হারিয়ে শিশু মিমের কান্না যেন থামছে না। অবুঝ এই শিশুকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও নেই স্বজন-প্রতিবেশীদের। এই শিশু এখন কীভাবে কোথায় থাকবে, তার ভবিষ্যৎ কী হবে-এ নিয়ে এখন স্বজন-প্রতিবেশীরা চিন্তিত। মিমের কান্নায় চোখ ভিজে উঠছে তাদেরও।

তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১ সপ্তাহের মধ্যে মিমের জন্য ১ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিম বড় হওয়া এবং তার বিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা তার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করবো বলে এলাকাবাসীর কাছে ওয়াদা দিয়েছি।

এর আগে সোমবার (৩ মে) রাত ৭টার দিকে তেরখাদা উপজেলা সদরের পারোখালী গ্রামে মনির শিকদারের বাড়িতে তাদের মরদেহগুলো এসে পৌঁছে। সেই থেকে বাড়িসহ পুরো এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

জানা যায়, ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন মনির শিকদার। তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন মিরপুরে। রোববার রাত ৮টায় খুলনার তেরখাদার বাড়িতে মারা যান মনির শিকদারের মা। মায়ের মরদেহ দেখতে পরিবারের সবাইকে নিয়েই খুলনার উদ্দেশে রওনা হন মনির। কিন্তু মায়ের মরদেহ দেখতে যেতে সবাইকেই যে মরদেহ হতে হবে-তা কে জানতো। এক শোক কাটিয়ে না উঠতেই আরেক শোকে মুহ্যমান সবাই।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনির শিকদারের বাবা আলম শিকদার মারা গেছেন আরও আগে। রোববার রাত ৮টায় মা মারা যাওয়ার সংবাদ রাতেই মনিরকে জানানো হয়। সবার সিদ্ধান্ত ছিলো সকালে মনির এসে পৌঁছালে মায়ের দাফন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সকাল থেকে মনিরের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তারা আর অপেক্ষা করেননি। সোমবার সকাল ১০টায় মনির শিকদারের মা লাইলী বেগমের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। এর কিছু সময় পরই নৌ দুর্ঘটনার খবর আসতে থাকে। খবর পেয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা শিবচরে ছুটে যান।

সোনালী/জেআর

শর্টলিংকঃ