মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম জানেন না অনেকেই

স্টাফ রিপোর্টার: রিকশাচালক শাহিন আলীর মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক। আকাশি রঙের মাস্ক হয়ে গেছে ফ্যাকাসে। শাহিন জানালেন, তিন দিন ধরে তিনি একটা মাস্কই ব্যবহার করছেন। তাই বদলে গেছে রঙ। চিকিৎসকরা বলছেন, সার্জিক্যাল মাস্ক একবারে ছয় ঘণ্টার বেশি ব্যবহার অনুচিত। এভাবে মাস্ক ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত ঘটবে।
শুধু শাহিন একা নন। তার মতো অনেকেই মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম জানেন না। করোনা আতঙ্কে শুধু অন্যকে ব্যবহার করতে দেখে তারা নিজেরাও ব্যবহার করছেন। যত্রতত্রভাবে মাস্কের ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, মাস্ক ব্যবহার করতে নিয়ম মেনে। তাহলে ঝুঁকিমুক্ত থাকা যাবে।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহী নগরীতে মাস্ক কিনতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। সংকট দেখা মাস্কের। বেড়ে যায় দাম। এখন বাইরে বের হলেই মানুষের মুখে মুখে মাস্ক দেখা যাচ্ছে। বাজারেও রয়েছে পর্যাপ্ত মাস্ক। দামও প্রায় স্বাভাবিক।
গতকাল সোমবার সকালে নগরীর কাদিরগঞ্জে মাস্ক পরে দাঁড়িয়েছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী জাহিদ আলী। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের ভয়ে তিনি মাস্ক পরছেন। সাধারণ এ মাস্কটি বাজার থেকে ২৫ টাকায় কিনেছেন। জাহিদ জানান, তিন দিন ধরে মাস্কটি ব্যবহার করছেন। কিন্তু ধোয়া হয়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক পরা এবং খোলার সঠিক নিয়ম জানেন না। আবার মাস্ক পরলে মুখে হাত দেন বেশি। এ থেকেই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে মাস্ক পরার চেয়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মাস্ক পরার পরিবর্তে আশঙ্কাজনক স্থান এড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. পার্থ মনি ভট্টাচার্য গতকাল বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক উপকারী। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক না পরলে মাস্ক থেকেই বিপদ হতে পারে। সার্জিক্যাল মাস্ক একবার ব্যবহারের জন্য। একবার খুললে দ্বিতীয়বার সেটি পরা উচিত নয়। আর একবারে সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টা এটা ব্যবহার করা যায়। ঘেমে গেলে সার্জিক্যাল মাস্ক ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।
কাপড়ের সাধারণ মাস্কগুলো একাধিকবার ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিদিন সেটাকে ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। আর এন-নাইনটিফাইভ মাস্ক সবার পরার প্রয়োজন নেই। এটা শুধু রোগী এবং চিকিৎসকরা পরবেন। ডা. পার্থ বলেন, করোনাভাইরাসটি আকারে বড়। মাস্কে সেটা আটকায়। কিন্তু মাস্ক ব্যবহার করতে হবে নিয়ম মেনেই। নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক না পরলে তা উল্টো বিপদ ডেকে আনবে।
আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, আমরা যখন পিএইচডি করেছি তখন এন-নাইনটিফাইভ মাস্ক পরা নিয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। মাস্ক পরার সঠিক নিয়ম জানতে হবে। মাস্ক ভুল করে পরলে বা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে ভেতরে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া জমা হবে। যাদের শ^াসকষ্ট আছে, তারা মারাও যেতে পারেন। এই মাস্ক সাধারণ মানুষ পরতে পারবে না। করোনা ঠেকাতে মাস্ক পরার চেয়ে বেশি জরুরি বার বার হাত ধোয়া। জনসমাগম এড়িয়ে চলা।

শর্টলিংকঃ