মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায় মোকাবিলায় বাইরে বের হওয়া মানুষের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এখন আলোচনায়। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিশেষজ্ঞরাও চিন্তিত। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শীত সামনে রেখে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মাঠ প্রশাসন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের জেলা-উপজেলার প্রশাসনকে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে সম্ভাব্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, এ সংক্রান্ত পরামর্শ চেয়ে চিঠি দিয়েছে। জেলা প্রশাসকরা প্রথম ধাপের করোনা পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে যেন পরিকল্পনা সাজান, সে কথাও মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬৪ জেলার ডিসিরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা তৈরি করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের অসুখ শুরু হতে পারে উপসর্গবিহীন অজানা রোগীদের কাছ থেকে, যারা এই ভাইরাস বহন করছে কিংবা অন্য দেশ থেকে আসা রোগীদের কাছ থেকে। এই রোগ বেশি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে শীত মৌসুমে। করোনার টিকা আসছে এমন কথা বেশ কিছুদিন থেকে শোনা গেলেও এখনই নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না কখন এটা পরিপূর্ণ টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ের প্রশাসন এরইমধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ করার চিন্তা চলছে। অর্থাৎ যারা মাস্ক পরিহিত থাকবে না, তারা সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবা পাবে না। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যাতে এই নিয়ম চালু করে, সেই উদ্যোগও নেবে জেলা প্রশাসন। এজন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিকভাবে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, মসজিদের ইমাম, অন্যান্য ধর্মের স্থানীয় শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে স্থানীয় প্রশাসন।

আমাদের দেশে এখন থেকেই যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। যদিও সব কিছু নির্ভর করছে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর। আমরা আশা করব, সরকারের চেষ্টার পাশাপাশি দেশের মানুষও করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। বিশেষ করে ঘরের বাইরে বের হলে কিংবা কর্মস্থলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ