মার্কেটেই দেয়া হচ্ছে টিআইএন নম্বর

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যে সকল নাগরিক বছরে আড়াই লাখ বা তার বেশি আয় করেন তাদেরকে অবশ্যই কর দিতে হবে। প্রত্যেক করদাতার নির্দিষ্ট একটি ‘ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) রয়েছে। আয়কর দেয়ার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই রয়েছে টিআইএন নম্বর সংগ্রহ। এটি বিড়ম্বনা ভেবে আয়কর অফিসে যান না অনেকেই। তবে ব্যবসায়ীদের কর দিতে উদ্বুদ্ধ করতে মার্কেটে গিয়েই টিআইএন নম্বর দিতে শুরু করেছেন রাজশাহী কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা।
গতকাল সোমবার রাজশাহী নগরীর হড়গ্রাম নিউমার্কেটে রাজশাহী কর অঞ্চলের ২০ জন কর্মকর্তা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় যাদের বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকার বেশি তাদের নির্ধারিত ফরমে নাম-ঠিকানা পূরণ করে করের আওতায় আনা হয়। মার্কেটের তৃতীয় তলায় কম্পিউটার বসিয়ে সেখান থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে নতুন করদাতাদের ১০ ডিজিটের টিআইএন নম্বর দেয়া হয়। হাতের নাগালেই এমন সেবা পেয়ে খুশি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে গোটা রাজশাহী কর অঞ্চলজুড়েই বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে তারা এমন সেবা দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজশাহী কর অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্য অর্জনেই নতুন করদাতা শনাক্তে মাঠে নেমেছে কর অঞ্চল। রাজশাহী বিভাগের পাঁচ জেলা থেকে অন্তত ৪০ হাজার ব্যক্তিকে করের আওতায় আনতে এই জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে টার্গেটের খুব কাছে পৌঁছে গেছে কর বিভাগ।
মার্কেটেই আয়কর বিভাগের সেবা পেয়ে হড়গ্রাম নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী জাবির লেডিস কর্নারের স্বত্বাধিকারী আবু হানিফ বলেন, বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা থাকলে কর দেয়া উচিত। তাহলে সম্পদ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। কিন্তু কর দেয়ার প্রক্রিয়া সহজ নয় ভেবে তিনি এত দিন করের আওতায় আসেননি। তবে নিজের মার্কেটেই কর বিভাগের সেবা পাওয়ায় তিনি টিআইএন নম্বর সংগ্রহ করেছেন।
তবে মার্কেটে কর বিভাগের কর্মকর্তাদের জরিপ কার্যক্রম নিয়ে ভয়ও পাচ্ছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী। হড়গ্রাম নিউমার্কেটের ন্যাশনাল গার্মেন্টের স্বত্বাধিকারি মানিক মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনা হচ্ছে, এটা ভাল। কিন্তু যাদের বার্ষিক আয় আড়াই লাখের নিচে তাদের যেন বাধ্য করা না হয়। তাহলে এটা বোঝা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আয়ের সঠিক হিসাব নিরূপণ করেই যেন ব্যবসায়ীদের আয়করের আওতায় আনা হয়।
জানতে চাইলে রাজশাহী কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার আবু নসর মো. মাহবুবুজ্জামান জানান, কারও আয় আড়াই লাখের নিচে হলে তাকে অবশ্যই করের আওতায় আনা হবে না। তাই জরিপ কার্যক্রম নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। তিনি বলেন, মার্কেটে জরিপ কার্যক্রমের সময় যাদের বার্ষিক আয় করের আওতায় পড়ে বলে দেখা যাচ্ছে কেবল তাদেরকেই আয়করের আওতায় আনা হচ্ছে। নতুন করদাতার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড, ট্রেড লাইসেন্সের ফটো কপি ও পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে টিআইএন নম্বর করে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমছে।
রাজশাহী কর অঞ্চলের কর কমিশনার মফিজউল্ল্যা বলেন, প্রতিটি জেলায় জরিপের সাথে সাথে করদাতাদের টিআইএন নম্বর দেয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ বছর রাজশাহী কর অঞ্চলে নতুন ৪০ হাজার করদাতা তালিকাভুক্ত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে টার্গেট দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০ হাজার নতুন করদাতা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেভাবে সাড়া দিচ্ছেন তাতে আরও ১০ হাজারেরও বেশি করদাতা শনাক্ত করা যাবে।

শর্টলিংকঃ