মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে টিকা আনবে না মোডার্না

অনলাইন ডেস্ক: মোডার্নার টিকা কবে আসবে সেই নিয়ে জোর জল্পনা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সুইস ফার্ম লোনজা জানিয়েছে, চলতি বছরেই টিকা আনতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা। এদিন মোডার্নার সিইও স্টিফেন ব্যানসেল জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে টিকা আসবে না। অত তাড়াহুড়ো করে টিকা আনার পক্ষপাতী নয় মোডার্না। সেফটি ট্রায়ালের পরে নভেম্বরের শেষে দিন ঘোষণা হতে পারে।

২৫ নভেম্বরের পরে টিকা নিয়ে আসতে পারে মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট মোডার্না, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন সিইও স্টিফেন। তিনি জানান, তিন স্তরে ট্রায়ালে টিকার রেজাল্ট খুবই ভালো। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাড়াতাড়ি টিকা নিয়ে আসার দরকার নেই। চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল শেষ করে সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট ভালো হলেই সবিস্তারে সেই তথ্য পাঠানো হবে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (এফডিএ)। ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেয়েও মানুষের সুরক্ষা বেশি জরুরি বলে জানিয়েছেন স্টিফেন। খবর দ্য ওয়ালের।

সিইও বলেছেন, অক্টোবরের শেষ থেকে টিকার বিপুল উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। ততদিনে টিকার ডোজ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা হয়ে যাবে। টিকার ভায়াল মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে রাখা হবে।

মোডার্না আগে জানিয়েছিল ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র সুস্থ ব্যক্তিদের শরীরেই টিকার ট্রায়াল হবে। ক্যানসার রোগী ও এইচআইভি রোগীদের টিকা দেওয়া হবে না। পরিবর্তিত গাইডলাইনে মোডার্না জানায় মেসেঞ্জার আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিন এইচআইভি রোগীদের শরীরেও নিরাপদ। সেফটি ট্রায়ালে সে প্রমাণ মিলেছে। তাই কম ডোজের ইঞ্জেকশন দিয়ে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

মোডার্নার তৈরি এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এসেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিরও আগে। এই টিকাও মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে বলে খবর। মোডার্নার সিইও স্টিফেন ব্যানসেল জানিয়েছেন, তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্বে টিকার ট্রায়াল চলছে। ৩০ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই ট্রায়ালের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজির তত্ত্বাবধানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। এই গবেষণায় রয়েছেন এনআইএইচের অধীনস্থ ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা। সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন ও ওষুধ নির্মাতা সংস্থা লোনজা গ্রুপ এজির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তিও হয়েছে মোডার্নার।

সিইও স্টিফেন জানিয়েছেন, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে অনেক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এইচআইভি রোগীদের শরীরে টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই সাফল্য সার্বিকভাবে এলে টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সন্দেহই থাকবে না।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ