মামার মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নিয়ে ফেঁসে গেলেন কৃষি কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুলাল হোসেনের (৩০) মামার নাম ইব্রাহিম আলী মÐল। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু চাকরি পেতে দুলাল তার মামাকে নানা হিসেবে দেখিয়েছেন। ইব্রাহিম আলী মÐলের মুক্তিযোদ্ধা সনদের কারণে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দুলালের চাকরিও হয়েছে।
চাকরি পাওয়ার ছয় বছর পর দুলালের এমন জালিয়াতি ধরা পড়েছে। অনুসন্ধান শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দুদকের রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে গত মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুলাল হোসেনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার তানইল গ্রামে। তার বাবার নাম মোসলেম উদ্দিন। মা দুলোতন বিবি। দুলাল এখন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বামনসাতা-সফাপুর বøকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। ২০১৩ সালে তার নিয়োগপত্র ইস্যু হয়। আগের বছর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তিনি চাকরির জন্য আবেদন করেন। আবেদনে দুলাল উল্লেখ করেন, ইব্রাহিম আলী মÐল তার নানা। আর মা দুলোতন বিবি ইব্রাহিমের মেয়ে। অথচ তারা দুই ভাই-বোন।
কিন্তু দুলাল মান্দার ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের একটি প্রত্যয়নপত্র দেন। এতে বলা হয়, দুলোতন বিবি ইব্রাহিমের বড় মেয়ে। তাই সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার চাকরি হয়ে যায়। কিন্তু অভিযোগ পেয়ে দুদক অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করা হয়নি। সেটি ভুয়া। আর ইব্রাহিম দুলালের নানা নয়, মামা। তাই মামলা করা হয়।
মামলায় বলা হয়, দুলাল ২০০৫ সালে দাখিল এবং ২০০৯ সালে কৃষি ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চাকরি নেন জালিয়াতি করে। নিয়োগ পাওয়ার পর দুলাল ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৪ টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দÐবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলা করা হয়।
এ বিষয়ে কথা বলতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুলাল হোসেনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুলাল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শর্টলিংকঃ