মানবপাচারের অপরাধ বিচারে ৭ ট্রাইব্যুনাল গঠন

সোনালী ডেস্ক: মানবপাচার অপরাধের বিচার দ্রæততম সময়ে শেষ করার লক্ষ্যে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। এসব আদালতের জন্য পদ সৃষ্টির পাশাপাশি বিচারকও পদায়ন করা হয়েছে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন প্রণয়নের ৮ বছরের মাথায় সরকার এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করলো।
গত রোববার (৮ মার্চ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে নবগঠিত ময়মনসিংহ বাদে বাকি ৭টি, অর্থাৎ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুরে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্র হিসেবে ওই ৭টি মহানগরসহ পুরো জেলাকে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মানবপাচার অপরাধ দমনে ৭টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিচারকও ইতোমধ্যে পদায়ন করা হয়েছে। তারা শিগগিরই যোগদান করবেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর অধীনে মহানগর এলাকাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর জেলার বিচারাধীন মামলাগুলো যে আদালতে বা ট্র্যাইব্যুনালেই বিচারাধীন থাকুক না কেন প্রজ্ঞাপন জারির ৩০ কার্যবিদসের মধ্যে তা ট্র্যাইব্যুনালগুলোতে স্থানান্তরিত হবে। মামলাগুলো যে অবস্থায় রয়েছে সে অবস্থা থেকেই চলমান হবে।
২০১২ সালে প্রণীত মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ২১(১) ধারায় এ ধরনের ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কথা বলা রয়েছে। ২১(২)-এর উপধারা (১) অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রতিটি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে ওই জেলার মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। ১৮০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে আইনে।
জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে মানবপাচারের ঘটনায় দায়ের প্রায় ছয় হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এতদিন এসব মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছিল। এসব ট্রাইব্যুনালে মামলার চাপ বেশি থাকায় দীর্ঘায়িত হচ্ছিল মানবপাচার মামলার বিচার।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই সাত ট্রাইব্যুনালের জন্য ৩৫টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ৭ জন বিচারক, ৭ জন করে সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর, বেঞ্চ সহকারী, গাড়িচালক এবং অফিস সহায়ক।

শর্টলিংকঃ