মাদক ছাড়ার প্রতিশ্রুতি, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান জরুরি

  • 6
    Shares

রাজশাহীতে আবারও মাদক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ২৫ নারী-পুরুষ মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। নগরীর শাহমখদুম কলেজ মাঠে বিট-পুলিশিং সমাবেশে মহানগর পুলিশ কমিশনারকে এই প্রতিশ্রুতি দেয়ায় তাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার মাদককে সব অপরাধের মা উল্লেখ করে সকলকে মাদক থেকে দূরে থাকার এবং মানুষকে নিরাপদ রাখার কথা বলেছেন। রাজশাহী মহানগরকে নিরাপত্তার নগর, শান্তির নগর করে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। এ সবই মানুষের মনের কথা বলাটা বাহুল্য।

তবে সীমান্ত জেলা হিসেবে রাজশাহীতে মাদকের ছড়াছড়ির কথা বহুল প্রচারিত। গোদাগাড়ী সীমান্তে মাদক স্পটের কথা ও মাদক আটকের ঘটনা মাঝে-মধ্যেই পত্রিকায় ফলাও প্রচার পায়। এর আগে দফায় দফায় মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেসবের সচিত্র প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এতে করে মাদক ব্যবসা বা ব্যবহার কমেছে এমন খবর অবশ্য দেখা যায়নি। আত্মসমার্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীরা কীভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে সেটাও মানুষ জানতে পারেনি।

তবে এবারের ঘটনায় যারা মাদক ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। মাদক থেকে দূরে থাকলে তাদেরকে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক বলতে হবে।

সাধারণত সঙ্গদোষে, অভাব ও বেকারত্বের কারণে মানুষ মাদকে জড়িয়ে পড়ে। তাই মাদক ছাড়তে ইচ্ছুকদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে নিঃসন্দেহে সুফল মিলবে। এক্ষেত্রে নেপথ্যে থেকে যারা মাদক ব্যবসার কলকাঠি নাড়ে ও ফায়দা লোটে তাদের দমন করা গুরুত্বপুর্ণ। মাদকের সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন কমিয়ে আনা আদৌ সম্ভব কি-না ভেবে দেখার বিষয়।

মাদক ছাড়ার প্রতিশ্রুতিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই। তবে মাদকে জড়িতদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আশা করি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ