মাতৃমৃত্যু হার কমাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরামর্শ

  • 4
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হোম ডেলিভারিকে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন। ‘শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর কৌশল নির্ধারণ’ সংক্রান্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ উপস্থিত সকল মহাপরিচালকের কিছু নির্দেশনা দেন জাহিদ মালেক।

মাতৃমৃত্যু হার কেন দ্রুত কমিয়ে আনা যাচ্ছে না সে ব্যাপারে সভায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে গেছে। এখন মায়েদের হোম ডেলিভারিতে নিরুৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্যোগী হতে হবে।

“যত্রতত্র ও অস্বাস্থ্যকর ক্লিনিকে মায়েদের ডেলিভারি বন্ধ করতে হবে। দেশের সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। যেসব ক্লিনিক স্বাস্থ্য সম্মত নয় সেগুলি প্রয়োজনে সিলগালা করে দিতে হবে। লোকবল আরো প্রয়োজন হলে নিয়োগ দিন। মিডওয়াইফ কর্মীদের কাজে লাগাতে হবে, তাদেরকে নিরাপদ ডেলিভারি করতে উৎসাহিত করতে হবে। যেখানে যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেখানে সেভাবেই কাজ করতে হবে, তবুও মাতৃমৃত্যু হার ধীরে ধীরে ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে।”

গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান দেখে দেশের মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরো জোড়ালো ভূমিকা রাখতে দিক-নির্দেশনা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রতি লক্ষ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্য ১৬৫ জন, যা ২০০৯ সালে ছিল ২৫৯ জন। গত ১০ বছরে মাতৃমৃত্যু হার কমেছে, প্রতি লক্ষ জীবিত জন্মে প্রায় ৯৪ জন। যদিও গত ১০ বছরের পরিসংখ্যানে কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লক্ষ জীবিত জন্মে ৭০ জনের নিচে নিয়ে আসতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

এবিষয়ে মন্ত্রী সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের ইমিডেয়েট প্লান, মিডটার্ম ও লং-টার্ম প্লান নিয়ে কাজ করারও পরামর্শ দেন জাহিদ মালেক।

সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর জানান, শহরাঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা সার্ভিস দেয়ার ব্যাপারটি অন্য মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় কাজ করা কঠিন। এ বিষয়ে সচিব মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সচিবকে আশ্বস্ত করেন।

সভায় নিপোর্টের মহাপরিচালক মাতৃমৃত্যু হারের কারণগুলি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজের ক্ষেত্রে জনবলের অভাবকে দায়ী করে দ্রুত লোকবল নিয়োগের উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনতে মায়েদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে যানবাহন সমস্যা, লোকবল সমস্যা, দালালদের ক্লিনিকে নেয়ার প্রচেষ্টা এবং মায়েদের ডায়াবেটিসসহ নানা রোগব্যাধি সমস্যাসহ নানা রকম সমস্যার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু, এনডিসি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ