মসজিদ মিশনের শিক্ষকদের বেতন ছাড়ে বাদশার সহায়তার আশ্বাস

  • 113
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর মসজিদ মিশন একাডেমির নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ছাড়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন। বুধবার দুপুরে তিনি শিক্ষকদের এই আশ্বাস দেন।

রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র বড়কুঠি এলাকায় অবস্থিত মসজিদ মিশন একাডেমি ‘মসজিদ মিশন সংস্থা’ নামে একটি সংস্থার দ্বারা পরিচালিত। জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এই সংস্থাটি নিজেদের ইচ্ছেমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কমিটি গঠন করে থাকে। সেখানে জামায়াতের নেতাকর্মীদেরই গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্য করা হয়।

তবে এবার অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে সভাপতি করে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড কমিটির অনুমোদন দেয়। কিন্তু এই কমিটির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায় মসজিদ মিশন সংস্থা। ফলে সভাপতির কার্যক্রম স্থগিত হয়। বিষয়টি নিয়ে এখনও মামলা চলমান। এ অবস্থায় সভাপতি স্বাক্ষর দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির ৪২ জন নন-এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে পড়ে। করোনাকালের এই মূহুর্তে গত তিন মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খানসহ নন-এমপিও শিক্ষকরা বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলের কাছে যান। তারা নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান। তখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল শিক্ষকদের জানান, উচ্চ আদালত থেকে শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে তার কাছে একটি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আদালতে চলমান মামলার প্রধান বিবাদী শিক্ষাসচিব। তাই পরবর্তী করণীয় জানতে চেয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। এর কোন উত্তর আসেনি। মন্ত্রণালয় যে ধরনের নির্দেশনা দেবে তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।

মসজিদ মিশন একাডেমিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ৪০ জন। কিন্তু নন-এমপিও শিক্ষক তার চেয়েও বেশি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষাকে পণ্যতে পরিণত করা হয়েছে। নিজেদের স্বার্থে যাকে খুশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারপরও মানবিক কারণে তিনি তাদের বেতনের বিষয়টি দেখবেন যদি সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে কথা বলেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ও মসজিদ মিশনের শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তখন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন। বাদশা বলেন, শিক্ষকরা কষ্টে থাকুক এটা আমিও চাই না। কিন্তু কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কোন দলের রাজনীতি চলবে না। এই প্রতিষ্ঠানে জামায়াত, অন্যটিতে বিএনপি, আরেকটিতে আওয়ামী লীগ বা ওয়ার্কার্স পার্টি হলে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে না। আমরা এটা চাই না।

তিনি বলেন, আমরা যদি মসজিদ মিশনের শিক্ষার ব্যাপারে আন্তরিক হই তাহলে এটিও একটি সেরা প্রতিষ্ঠানে রূপ পাবে। আমাদের সেভাবেই কাজ করতে হবে। আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাই মসজিদ মিশনে কোন রাজনীতি চলবে না। কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পবিত্র জায়গা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু শিক্ষাদানই হবে। কোন গোষ্ঠি বা দলের স্বার্থ রক্ষা করার কাজ হতে দেয়া হবে না।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ