মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ জোরদার করুন

  • 2
    Shares


শীত পুরোপুরি যয়নি, লেপ-কাঁথা এখনও বিদায় নেয়নি, কিন্তু মশার উপদ্রবে বেসামাল মানুষ। দিনে রাতে মশার কামড়ে অস্থির নাগরিকরা সিটি কর্পোরেশনের দিকে আঙ্গুল তুলছেন। দীর্ঘদিন মশা নিধন অভিযান বন্ধ। শীতে মশার উপদ্রব কম থাকায় এটা ছিল স্বাভাবিক, তবে বর্তমান অবস্থা অস্বাভাবিক।

নগরীতে নালা-নর্দমায় জমে থাকা পানি, নিচু এলাকা জলাশয়ে মশা নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করছে। ময়লা-আবর্জনা, শহরতলীর ঝোঁপঝাড়ও মশার নিরাপদ আবাস। বাসা-বাড়ির আনাচে-কানাচেও দেখা মেলে মশার। শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম থেকে দোকান-পাট, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উৎপাতে অস্থির সব স্তরের মানুষ।

অবিলম্বে মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া না হলে ঢাকার মত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা জেগেছে মানুষের মনে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বর ছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে গোদ রোগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীসহ দেশের ১৯ জেলা ৪৩ হাজার মানুষ এই রোগে এর মধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার পর মশার কামড়ে এখন ছড়িয়ে পড়ছে গোদরোগ বা ফাইলেরিয়া। নগরীতে মশার দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষের আতঙ্কিত হওয়া কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

পরিস্থিতি বুঝেই সম্ভবত রাসিক কর্তৃপক্ষ নগরীতে মশা নিধনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গতকাল থেকে ফগার মেশিনে কীটনাশক ধোঁয়া দেয়া শুরু হয়েছে। এর কার্যকরিতা এখন দেখার বিষয়। সামনে রমজান, আসছে গ্রীষ্মকাল। তাই এই অভিযান পরিকল্পনা মাফিক চালিয়ে যেতে হবে। বেছে বেছে মশার আবাস ও বংশবিস্তারের এলাকাগুলোতেই বেশি করে ওষুধ ছেটালে উৎপাত কমে আসবে নিশ্চিত। কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ঠিক ঠিক জায়গায় ওষুধ ছেটানো নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে চালাতে হবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও। পরিকল্পিতভাবে অভিযান না হলে সুফলের দেখা পাওয়া কঠিন হবে। এক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।

তবে মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া ফগার মেশিনে সাময়িক নিষ্কৃতি মিলতে পারে। এর চেয়ে বেশি আর কি-ই বা আশা করা যায়।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ