মশার উৎপাতে নগরবাসীর বেহাল দশা

বিশেষ প্রতিনিধি: মশার উপদ্রবে বেহাল দশায় পড়েছেন নগরবাসী। মশার উৎপাত এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যাতে করে মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি জেনেও মানুষ কয়েল এবং অ্যারোসলসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসয়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।
দিনে রাতে সমান তালে চলছে মশার উৎপাত। মশার উৎপাত শুধু মানুষ নয় গৃহপালিত পশুরাও নেই স্বস্তিতে। অন্যদিকে মশকনিধনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কোন কার্যক্রম নজরে আসছে না নগরবাসীর। এক রকম নির্লিপ্ত রয়েছে তারা।
রাসিকের একজন জনপ্রতিনিধি জানান, মশার ওষুধ সরবরাহ না পাওয়ায় তারা নিধন কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। এ কারণে মশকনিধন কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধই রয়েছে।
এদিকে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে তা মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মশার উৎপাতে বেকায়দায় পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ছাত্র-ছাত্রীরা। মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে মানুষ কয়েল, অ্যারোসল, ভ্যাপোরাইসার, ম্যাটসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদ্ধতির দ্বারস্থ হচ্ছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিকর দিক জেনে অথবা না জেনেই এবং অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ। দেশের সর্বত্র বিভিন্ন দোকানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরন এবং ব্র্যান্ডের কয়েল, অ্যারোসল, ভ্যাপোরাইসার ও ম্যাট বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন বিজ্ঞান গবেষণাপত্রে প্রকাশিত তথ্য মতে মশা নিরোধক এসব পণ্য ব্যবহার করার সময় নির্ধারিত মাত্রা বজায় রাখতে হবে।
কয়েল, ম্যাট ও ভ্যাপোরাইসার ব্যবহারের সময় ঘরের জানালা খোলা রাখতে হবে, যাতে ঘরে বিষাক্ত ধোঁয়ার আধিক্য বৃদ্ধি না পায়। অ্যারোসল ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োগের সময় কক্ষ নির্দিষ্ট সময় (প্রায় আধা ঘণ্টা) জন-মানুষ শূন্য রাখতে হবে। গবেষণায় প্রকাশিত তথ্যমতে এসব সতর্কতা অবলম্বন না করলে এবং দীর্ঘ মেয়াদে এসব ব্যবহার করলে অ্যাজমা, অ্যালার্জি, বন্ধ্যাত্বসহ স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বাজারে যেসব কোম্পানির কয়েল, অ্যারোসল, ভ্যাপোরাইসার ও ম্যাট বেশি বিক্রি হয়, প্রায় সবগুলোরই বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে। এসব বিজ্ঞাপনে মশা তাড়াতে বিভিন্ন চমকপ্রদ কথা থাকলেও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও এর থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কিত কোনো নির্দেশনা থাকে না।
ভোক্তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েলের কার্যকারিতার জন্য তারা নির্দেশনা অনুসরণ করেন না। আবার অনেক ভোক্তা সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি জানেন না বলেও জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিমত একই। তারা কেনেন বিক্রি করেন ভাল মন্দ বোঝার বিষয়টি তাদের জানার কথা নয়।
অস্বাভাবিকভাবে মশার বৃদ্ধিতে শুধু মানুষই নয় গৃহপালিত পশুরাও নেই স্বস্থিতে। মশার জ্বালাতনে বিরক্ত হয়ে উঠেছে মানুষ। শীত কমে আসার সাথে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে মশার উপদ্রব। মশার উৎপাতে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ছে।
গতকাল বুধবার রাতে রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও বর্জ্য ব্যবস্থপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি সরিফুল ইসলাম বাবুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। মিটিং থেকে মশা নিধন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী অবিলম্বে মশা নিধনে রাসিক কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন।

শর্টলিংকঃ