মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরবাসী

  • 12
    Shares

তৈয়বুর রহমান: বৃষ্টি কমে যাওয়ার সাথে সাথে নগরীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। খেতে বসে আরাম নেই, শুয়ে থেকে আরাম নেই, এমনকি মুসল্লিদের নামাজ পড়তেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। কিছুদিন হলো বৃষ্টি হয়নি নগরীতে।

তবে নগরীর ড্রেন, ডোবা, নালা ও ছোট-খাটো জলাশয়ে পানি জমে আছে। এ সব জলাশয়ের পানিতে, আগাছা, ঝোপ-ঝাড়-জঙ্গলে মশা বংশবৃদ্ধি করে চলেছে। মশা নিধনের জন্য আগে প্রতিদিনই ওষুধ ছিঁটানো হতো। এখন আর ড্রেন ও জলাশয়ে তা ছিঁটানো হয় না। ফলে মশার বংশবৃদ্ধি এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে নগরীর ডিঙাডোবা, বহরমপুর, তেরখাদিয়া, মেহেরচণ্ডী, মধ্য নওদাপাড়া, ছোটবন গ্রাম, বড়বন গ্রাম, কাজলা-ধরমপুরসহ নিত্য নতুন গড়ে ওঠা আবাসিক ও নিচু এলাকাগুলোতে মশার দ্রত বিস্তার ঘটছে এবং উপদ্রবও বেড়েছে।

বিজ্ঞজনদের মতে প্রবল বেগে এবং মুষলধারে বৃষ্টি হলে তাতে অনেক মশা মারা যায়। কিন্তু বৃষ্টি কমে যাবার সাথে সাথে যদি পানি জমে থাকে, আর সেই পঁচা পানিতে মশা ডিম পেড়ে বংশবিস্তার করে। আবার তিন দিন জমে থাকা পরিষ্কার পানি আরও মারাত্মক। এতে এডিস মশা জন্ম নেয়। এ মশার কামড়ে চিকনগুনিয়া হতে পারে।

এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে ড্রেন ও জলাশয়ে মশা মারা ওষুধ ছিঁটানো হয় না। এ সম্পর্কে রাসিকের কোন কর্মসূচি নেই বলেই মনে হয়। তাদের মতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেছে। মশা মারা ওষুধ স্প্রে হচ্ছে না। তাই মশকের এত উৎপাত।

নগরীর বাসা-বাড়ি,অফিস-আদালত ছাড়াও কাঁচা বাজারগুলোতেও বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। সাহেববাজার মাস্টারপাড়ার কাঁচা মাল ব্যবসায়ী ইউনুস আলী বলেন, এখানে যে সব মালামাল কেনা-কাটা হয় তার অধিকাংশই পচনশীল। একটু দেরি হলেই সেই পচা শাক-সবজিতেও মশা মাছির বংশবিস্তার সহজ হয়। মশার দাপট দিনে কম থাকলেও রাতে অতিষ্ঠ করে তুলে।

অটোরিকশা চালক রাজু আহম্মদ বলেন, রোডপাড়া নওদাপাড়া খুবই পিছিয়ে পড়া এলাকা। এখানে রাস্তা ও ড্রেন কোনটাই নেই। বাড়ির আশপাশেই পানি জমে থাকে। এতে মশা-মাছি জন্ম নেয়। অথচ মশা নিধনের কোন উদ্যোগ না থাকায় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

তেরখাদিয়া এলাকার পল্লিচিকিৎসক আসগর আলী বলেন, যেখানে দেশের রাজধানী ঢাকার মত বড় বড় শহরে করোনাকালে প্রবল বৃষ্টির মাঝে চিকনগুনিয়া রোধে মশক নিধন কর্মসূচি চালু থেকেছে সেখানে রাসিক কর্তৃপক্ষের মশা নিধনের কর্মসূচির দেখা নেই। শুধু নওদাপাড়া নয়, নগরীর অনেক নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় পানি পচে মশা-মাছি জন্ম নিচ্ছে।

কাজলার আব্দুর রাজ্জাক এ সম্পর্কে বলেন, নগরীতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকায় মশার উপদ্রবরোধে কার্যক্রম চলে আসলেও রাজশাহীর মত একটি বিভাগীয় শহরে নগর কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, এখনই মশক নিয়ন্ত্রণের কোন উদ্যোগ না নিলে আগামীতে রাজশাহী মশার নগরীতে পরিণত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

নগরীর দড়িখড়বোনার বাসিন্দা রফিক বলেন, এই এলাকাটি খুবই ঘিঞ্জি। ভিতরে রিকশা-ভ্যান কিছুই আসতে পারে না। পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে একটি বড় ড্রেন। বৃষ্টি কমে গেলে এসব ড্রেনে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ড্রেনের পানিতে মশা-মাছি জন্ম নেয়। তাই এ সময় মশা নিধনের জন্য ওষুধ ছিটানো খুবই জরুরি। অথচ এ ধরনের কোন উদ্যোগে দেখা যাচ্ছে না।

তেরখাদিয়ার নূরমোহম্মদ নূরু বলেন, তেরখাদিয়ার মধ্যপাড়া উত্তরপাড়া সবে গড়ে উঠছে। সেখানে নিত্যনতুন বাড়ি-ঘর হচ্ছে। অনেক রাস্তা-ঘাটে এখনো পানি জমে আছে। এতে মশা জন্ম নিচ্ছে। মানুষ রাতে মশারি টঙিয়ে ঘুমিয়েও আরাম পায় না। মশারির ফাঁক গলিয়ে ভিতরে ঢুকে কামড় দিচ্ছে। কয়েল দিয়েও মশার কামড় থামানো যায় না। ছোটছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম অশান্তিতে ঘুমাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

মশক নিয়ন্ত্রণের এখনই কোন রাসিকের কর্মসূচি আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে রাসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মামুন মাহমুদ ডলার বলেন, নগরীতে মশা এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাসিকের কোন কর্মসূচি নেই। তবে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেলে সাথে সাথে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মশক নিয়ন্ত্রণের যে কোন অভিযান চালাতেও প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ