ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের দÐ অবৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত

সোনালী ডেস্ক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে কোনো শিশুকে দÐ দেওয়া অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি নূরুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি সাংবাদিকদের আদেশের বিষয় নিশ্চিত করে বলেছেন, এ আদেশের ফলে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশুরা অ্যাফেক্টেড হবে। ১২১ শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেওয়া দÐ অবৈধ ও বাতিল করে ১১ মার্চ এমন রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শিশুদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান।
এর আগে এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনার পর গত ৩১ অক্টোবর হাইকোর্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দÐিত দুই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের নিচের শিশুদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন। এছাড়া বাকিদের ছয় মাসের জামিন দেন। একইসঙ্গে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ১১ মার্চ রায়ের পর ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বলেছিলেন, ১২১ শিশুকে দÐ দেওয়া নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সে রুলের শুনানি শেষে রায় হয়েছে। এই ১২১ শিশুর দÐ সম্পূর্ণরুপে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন।
আদালত আরও বলেছেন, কোনো শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনো দÐ দিতে পারবেন না। কারণ ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনো শিশুকে দÐ দিলে, সেই দÐ সংবিধানের ৩০ এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে। ১২১ শিশুকে দÐ দেয়ার ক্ষেত্রেও মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দÐ দেবেন, সে ক্ষমতা কোনো আইনে নেই। একমাত্র শিশু আইনে শিশু আদালত শিশুদের দÐ দিতে পারবেন। অন্য কোনো আদালত কোনো অবস্থাতেই তাদের দÐ দিতে পারবেন না।
ব্যারিস্টার আবদুল হালিম আরও বলেন, আদালত বলেছেন, এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে দেশে আসলে দুই ধরনের বিচার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার ব্যবস্থা। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার ব্যবস্থা স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। যা শুধু অসাংবিধানিকই নয়, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থীই নয়, গণতান্ত্রিক ন্যায়-নীতির পরিপন্থী, মানবাধিকারের পরিপন্থীও।
‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দÐ’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন ৩১ অক্টোবর আদালতের নজের আনেন ব্যারিস্টার আবদুল হালিম। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু আইনে স্পষ্টই বলা আছে, অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধে জড়িত থাকা শিশুর বিচার শুধু শিশু আদালতেই হবে। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত শিশুদের দÐ দিয়ে চলেছেন।

শর্টলিংকঃ