ভোজ্যতেলে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

কাজী নাজমুল ইসলাম: চলতি বছরের শুরু থেকে তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে তেলের দাম। এই অবস্থায় সরকার ভোজ্যতেলের দর নির্ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে শুরু করে। বছরের শুরুতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ছিল খোলা ৯২ টাকা এবং বোতলজাত ১০৫ টাকা। বুধবার এই তেলের দাম ছিল খোলা প্রতি লিটার ১১৮ টাকা এবং বোতলজাত ১৩৫ টাকা। দেড় মাসের ব্যবধানে তেলের দাম লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, গত ১০ বছরের মধ্যে এটি তেলের সর্বোচ্চ দাম। ১০ বছর আগে তেলের দাম খোলা ১০৮ ও বোতলজাত ১২০ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এই অজুহাতে তেলের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অথচ নতুনভাবে এখনও তেল আমদানি করা হয়নি। আগের আমদানি করা তেলই বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, এ অবস্থায় ২/১ দিনের মধ্যে আরেকদফা বাড়বে তেলের দাম।

এই পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামঅয়েলের প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ ঘোষণা দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেলের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সামনে রমজান মাস, বর্তমানে যথেষ্ট মজুদ আছে। সব হিসাব-নিকাশ করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়। শক্ত হাতে দাম নিয়ন্ত্রণ করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দাম কমে গেলে বিবেচনা করা হবে, বেড়ে গেলেও বিবেচনা করা হবে। আমরা যে তেল ব্যবহার করি তার ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়।

তিনি বলেন, প্রতি লিটার সয়াবিন (খোলা) মিল গেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিল গেট মূল্য ১২৩ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১২৭ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১৩৫ টাকা। ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিল গেট মূল্য ৫৮৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৬ শ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৬২৫ টাকা। আমাদের দেশে আমরা সাধারণত যে তেল ব্যবহার করি তার ৭০ শতাংশ পাম সুপার। যার প্রতি লিটার মিল গেট মূল্য (খোলা) ৯৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৯৮ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১০৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে গত ৬ মাসে তেলের দাম ৬৫ শতাংশ বেড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিপিং কস্টও বেড়েছে, এছাড়া জাহাজের তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামতেলের আমদানিতে আরোপিত ভ্যাট ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় আরও বেশি যৌক্তিকহারে নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভোজ্যতেলের মূল্য অস্থিতিশীল থাকায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা প্রতি মাসেই আয়োজন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ