ভেজাল রোধে জরিমানাই কি যথেষ্ট?

  • 4
    Shares

দেশে ভেজালের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভেজাল নেই এমন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া ভার। সম্প্রতি নাটোরের লালপুরে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে ভেজালকারীকে। তিনি রস ছাড়াই খেজুর গুড় তৈরি করছিলেন।

ভেজাল গুড় তৈরির সংবাদ পেয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গুড়ের কারখানা থেকে ১৫ হাজার কেজি ভেজাল গুড়, ৫ কেজি ফিটকিরি, ২০ কেজি ভেজাল ময়দা, ৩১৬ টি গুড় রাখার টিন, ৩ লিটার রঙ ও ২০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হলেও কোনো রস পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা গুড় খেজুরের রস ছাড়াই চিনি, ময়দা ও রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে ভেজালকারী ব্যবসায়ী স্বীকার করেছেন। ভেজাল গুড় তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং জব্দ করা মালামাল ধ্বংস করার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

খেজুর গুড় খেতে কে না ভালোবাসে! হাট-বাজার ও দোকানে সাজিয়ে রাখা আকর্ষণীয় রঙের ভালো গুড় কিনতে আমরা খেজুরের গন্ধই খুঁজে ফিরি। ভালো গুড়ের জন্য বেশি দাম দিতেও পিছিয়ে থাকি না। কিন্তু ভেজাল গুড় চেনার সাধ্য কয়জনার ? মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা কি ভেজালের দৌরাত্ম্য শেষ করতে পারবে, না পেরেছে ?

ভেজাল পণ্যে শুধু আর্থিকভাবে প্রতারিত হওয়াই নয়, স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হিসাবের বাইরে। কিন্তু ভেজাল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। সংবাদ পেয়ে অভিযানের আগে শুরুতেই কি ভেজাল কারবার বন্ধ করা অসম্ভব ? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, থানা-পুলিশের নাকের ডগায় ভেজাল কারবার চলে কি ভাবে ? বাজারের পণ্য, বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ভেজাল কি-না তা পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে কি ? যথাযথ নজরদারি করা কি এতটাই অসম্ভব ? এ সব প্রশ্নের জবাব কে দেবে ?

নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ছাড়া ভেজাল রোধে জরিমানাই যে যথেষ্ট নয় সেটা বুঝতে আর কত সময় লাগবে ?

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ