ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

বাজারে ভেজাল পণ্যের ছড়াছড়ি। শিশু খাদ্যসহ খাদ্যপণ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, কোথায় ভেজাল নেই কেউ বলতে পারে না। মাঝে মধ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানো হলেও ভেজালের দৌরাত্ম্য অব্যাহত আছে।

ভেজালের হাত থেকে করোনা পরীক্ষা, প্রতিরোধী পোশাক, মাস্ক কিছুই রক্ষা পায়নি। বাজারে ভেজালমুক্ত পণ্য পাওয়া কঠিন। বোতলজাত পানিতেও ভেজাল। বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীতে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের ভয়াবহ উপস্থিতি ধরা পড়েছে। র‌্যাবের অভিযানেও এমন পণ্য আটকের ঘটনা ফলাও প্রচার পেয়েছে। ভেজাল পণ্য নষ্ট ও বিক্রেতাকে জরিমানার খবর প্রকাশিত হলেও ভেজাল কমে আসার খবর নেই।

ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রিতে অতিরিক্ত লাভের কারণেই অসাধু ব্যক্তিরা ভেজালের কারবারে উৎসাহিত। ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের পণ্য ভোগ ও ব্যবহার করে মানুষ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে; জনস্বাস্থ্যে হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে, এমনকি মারাও যাচ্ছে।

ভেজাল শনাক্ত না হওয়ায় এবং এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই ভেজালের শিকার হচ্ছে। ভেজাল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার কারণেই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে প্রতিয়মান হয়। ভেজাল পণ্য আটকের সাথে সাথেই যদি বিক্রেতা ও উৎপাদকের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত হয় তবে ভেজালের দৌরাত্ম্য কমে আসবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়। এর পাশাপাশি ভেজাল পণ্য ক্রয় ও ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করা যায় না।

খাদ্যে ভেজাল ঠেকাতে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ কার্যকর হয় ২০১৫ সাল থেকে। প্রতিটি জেলায় চালু হয় ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’। কিন্তু এসব আদালতে মামলা নেই বললেই চলে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযোগ পেয়ে মাঝে মধ্যে মামলা করলে ভেজালপণ্য বিক্রেতার সাজা হয় ঠিকই তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এজন্য জনবলের অভাব ও অভিযোগ না আসাকেই দায়ি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

যে কোনো ধরনের ভেজাল ও অনিরাপদ পণ্য হাতে এলে মানুষ যাতে দ্রুত আইনের আশ্রয় নিতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। এজন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এবং মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সাথে ভেজাল ও অনিরাপদ পণ্য সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা এবং এ ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ