ভিড় নেই বাজারে, কমেছে সবজির দাম

শিরিন সুলতানা কেয়া: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এনেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না লোকজন। যার প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর সবজির বাজারেও, একেবারেই ভিড় নেই সেখানে। আর ক্রেতা কম থাকায় বাজারে সবজির দামও কমেছে আগের চেয়ে।
গতকাল শনিবার নগরীর কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। বাজারগুলোতে খুব অল্পসংখ্যক বিক্রেতা তাদের পণ্যে নিয়ে বসে আছেন। তবে ক্রেতাদের সংখ্যা খুব নগণ্য। এতে বিপাকেই পড়েছেন রাজশাহীর বিক্রেতারা। শাক-সবজি পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে বাজারে শাক-সবজিসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম আগের চেয়ে কমলেও বেড়েছে লেবুর দাম। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লেবু খাওয়ার পরামর্শ থাকায় চাপ পড়েছে লেবুর ওপর। আগে যে লেবু বিক্রি হতো ২০ টাকা হালি সেই লেবু এখন ৫০ টাকা। আর ৪০ টাকার লেবুর হালি এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দাম কমে গেছে এ সপ্তাহে।
বিক্রেতারা জানান, গত কয়েকদিন আগে মিষ্টি কুমড়ার দাম ছিলো কেজি প্রতি ৩০-৩৫ টাকা। কিন্তু শনিবার দাম কমে বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজিতে। কিছুদিন আগেও বেগুনের দাম ছিলো খুব চড়া। কিন্তু এখন বেগুন মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র চারদিন আগে রাজশাহীতে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা। কমেছে পটল এবং ঢেঁড়সেরও দাম। কয়েকদিন আগে পটল এবং ঢেঁড়স ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তেমনি কমেছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও। পেঁয়াজের মূল্য অনেকটা কমে বর্তমান বাজার দর ৩০-৩৫ টাকা কেজি। এখন আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। অথচ কয়েকদিন আগেও প্রতিকেজি আদা দেড়শ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের। দাম কমেছে রসুনেরও। রসুন বর্তমানে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে লাউ কয়েকদিন আগেও আকার ভেদে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতিটির দাম ২০-২৫ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি। এছাড়া কমেছে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম।
নগরীর সাহেববাজার কাঁচাবাজারের সবজিব্যবসায়ী লোকমান হোসেন বলেন, করোনা আতঙ্কে সবকিছুর দাম আগে বাড়লেও এখন কাঁচা সবজির দাম বাড়েনি। কয়েকদিন আগেও দাম বেশি ছিলো। তবে এখন দাম কমেছে। ক্রেতাও তেমন নেই। বিক্রি বেশি হচ্ছে না বলে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে।
কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করছিলেন সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় দাম অনেক কমেছে। সেই সাথে ভিড়ও। আগে তো কোন কিছু কিনতে হলে লাইনে দাঁড়াতে হতো। অথচ আজকে তেমন লোকই নেই। আমাদের ধারণা ছিলো, করোনাভাইরাসের অজুহাতে হয়ত ব্যবসায়ীরা দাম বেশি নিবেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের মনিটরিংয়ের কারণেই হয়তো সবকিছুর দাম স্বাভাবিক আছে।
জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, আমরা আগে থেকেই রাজশাহীতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি। শুধু সবজি বাজারের ক্ষেত্রে না, প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেন স্বাভাবিক থাকে সেদিকে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর রয়েছে। তাই রাজশাহীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

শর্টলিংকঃ