ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধ একই মালার দুটি ফুল

  • 17
    Shares

ফজলে হোসেন বাদশা

যদি একুশে ফেব্রুয়ারি না হতো তাহলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। আমাদের সবার জানা আছে- অবিভক্ত ভারতবর্ষে যখন মুসলিম শাসন ছিল তখনও ধর্মভিত্তিক বিভাজন ছিল না। কিন্তু বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ ভারতবর্ষকে ধর্মভিত্তিক-সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তারই পরিণতি হচ্ছে ভারতবর্ষের বিভক্তি।

কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আমাদের বাংলাদেশকে অন্তুর্ভুক্ত করার পর একই প্রতিচ্ছবি দেখলাম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কণ্ঠে। আমাদেরকে আবার সেই ধর্মভিত্তিক বিভাজনের মধ্যে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা দেখলাম। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি কার্জন হলে বলেছিলেন, ‘উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’

বাংলাদেশের সংগ্রামী ছাত্রসমাজ এই জিন্নাহর বক্তব্য মেনে নিতে পারেনি। তারা বলেছিল- ‘না, রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা।’ এই বাংলা ভাষার আন্দোলন, এই রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন একুশে ফেব্রুয়ারির সংগ্রাম বাংলাদেশে এক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিল। তার বীজ বপণ করেছিল। তাই ভাষা আন্দোলনকে আমরা কখনও গুরুত্বহীনভাবে দেখতে পারি না। আমরা সব সময় মনে করি, ভাষা আন্দোলন আমাদের নতুন দেশ ও জাতি গঠনের যাত্রা শুরু করেছিল। ভাষা আন্দোলনের সাফল্যের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের নিজস্ব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করতে পেরেছিলাম। তাই ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ একই মালার দুটি ফুল। এটিকে পৃথক করার কোন উপায় নেই।

আমি মনে করি, আজকে আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে যাই, যদি একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা ভুলে যাই, আমার মাতৃভাষার মর্যাদা যদি বাংলাদেশে এখনও না থাকে, তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের চেতনা এবং দর্শনের মধ্যে অনেক ত্রুটি থেকে যায়। আমি আশা করব, আত্মপরিচয়ে আমরা যেন একেবারে দৃঢ় থাকি। এখনও বাংলাদেশের ভেতরে ধর্মভিত্তিক বিভাজন চলছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ’৭২ এ আমাদের যে সংবিধান দিয়েছেন, চার মূলনীতি দিয়েছেন তার মধ্যে আমাদের সেই প্রশ্নের সমাধান করে দিয়েছেন।

আমাদের শ্লোগান দিয়েছেন- ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। আমাদের একটাই পরিচয়। আমরা বাঙালী। আমরা বাংলার মানুষ, বাংলা ভাষায় কথা বলি আর আমাদের মাতৃভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের শ্রদ্ধা জানাতে একুশের সেই সকালে নগ্ন পায়ে আমরা শহীদ মিনারে হাজির হই। আমাদের এই চেতনাবোধ যেন চিরজাগ্রত থাকে, চিরদিন জেগে থাকে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এই চেতনাবোধের যেন কোন বিচ্যুতি না ঘটে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন শহীদ মিনার থাকবে, একুশে ফেব্রুয়ারি থাকবে, বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। সবসময় এটাই প্রত্যাশা করি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ