- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

ভবন নির্মাণে লাগবে রাসিকের অনুমতি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই উঠছে ভবন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা বহুতল ভবনের অনুমোদন দিচ্ছেন। আর নিয়ম ছাড়াই ভবন গড়ে তুলছেন মালিকরা। ফলে অপরিকল্পিতভাবেই বেশিরভাগ ভবন নির্মাণ হচ্ছে, ঝুঁকি বাড়ছে।

এ অবস্থায় ভবন নির্মাণের আগে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) অনাপত্তিপত্র (এনওসি) গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রেও রাসিকের অনুমতি লাগবে। এ ব্যাপারে একটি উপ-আইন তৈরি করতে যাচ্ছে নগর সংস্থা। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই এটি কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

রাজশাহী নগরীতে ২০০৯ সাল থেকে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর আগে নগরীতে ১০ তলা বলতে ছিল কেবল সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জীবন বীমার ভবনটি। কয়েক বছরের ব্যবধানে ১০ তলা ভবন এখন ৫০টির বেশি। নগর ভবন থেকে শুরু করে আশপাশে আরও চারটি এবং সাহেববাজার এলাকায় ১০টি, আলুপট্টির মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, সাগরপাড়া, উপশহর, বর্ণালীর মোড়, আমবাগান, তেরোখাদিয়া, সিপাইপাড়া, কাজীহাটা ও পদ্মা আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব ভবন। ১০ তলার নিচে এবং পাঁচ তলার ঊর্ধ্বে ভবনের সংখ্যা কয়েকশ। নগরীতে ভবনের নির্মাণের জন্য এখন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমোদন নিতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে নগরীতে ৬০০ ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ তলা পর্যন্ত ৫৬৫টি এবং ছয়ের অধিক তলা ভবনের অনুমোদন ছিল ৩৫টির। ২০১৪ সালে অনুমোদন দেওয়া হয় ৫০২টির। এর মধ্যে ৪৮৬টি পাঁচতলা পর্যন্ত এবং ছয়ের অধিক তলার ভবন ৩৫টি। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫৪টি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টি পাঁচ তলা পর্যন্ত এবং ছয়ের অধিক তলার ভবন অনুমোদন ছিল ৩৩টি। এরপরের চার বছরের আরও অন্তত দেড় হাজার ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য আরডিএ’র এক অথরাইজড অফিসার থেকে শুরু করে নগর পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে গুনতে হয় লাখ লাখ টাকা। আর টাকা দিলেই জমির শ্রেণি বদলেও মেলে নকশার অনুমোদন। আবার টাকার বিনিময়েই কখনো কখনো মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করেও দেওয়া হয় ভবনের অনুমোদন। ফলে রাজশাহী হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নগর। এ অবস্থায় এবার সেদিকে নজর দিল সিটি কর্পোরেশন।

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ইমারত নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, ইমারত পরিদর্শন, অননুমোদিত নির্মাণ কাজ ভেঙ্গে ফেলা, ইমারত নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ সংক্রান্ত অপরাধ, ইমারত নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ ফিস নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার সাথে মতবিনিময় সভাও করেছে রাসিক। রোববার বিকেলে নগর ভবনের সিটি হলসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাসিকর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

সভায় তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর ও বাসযোগ্য মহানগরী গড়তে চাই। সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে প্রয়োজন পরিকল্পিত নগরায়ন। এজন্য ভবন/বাড়ি নির্মাণের পূর্বে আরডিএ’র পাশপাশি সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকেও অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে। মেয়র বলেন, নগরীতে বিগত সময়ে তেমন বহুতল ভবন ছিল না। গত ১০ বছর থেকে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে আরডিএ’র নিয়ম মেনেই করতে হবে। নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন তদারকি করবে। নিয়ম লঙ্ঘন হলে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আব্দুল হামিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আব্দুর রকিব প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন। সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সচিব আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ, সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভলপার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর ফারুক আহম্মেদ, নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমীন, ওয়াসার ডিএমডি সোহেল রানা, বিটিসিএল’র ডিজিএম গোলাম মোর্শেদ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অ্যাডিশনাল জিএম অজয় কুমার পোদ্দার, এলজিইডি‘র নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহার আলী প্রামাণিক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম শামীম আহম্মেদ, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

রাসিকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাড়ি বা ভবন নির্মাণের আগে রাসিকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত একটি ‘সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ হিসেবে সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা উল্লেখ করেছেন। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই উদ্যোগ ও তদারকির ফলে ভবন মালিক বিল্ডিং কোড মেনে চলতে বাধ্য হবেন। ফলে অনেক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

সোনালী/এমই