বড় পুকুরিয়ায় সাড়ে ৫ লাখ টন কয়লা আত্মসাৎ: ক্যাব

সোনালী ডেস্ক: বড় পুকুরিয়ায় ৫ দশমিক ৪৮ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাৎ হয়েছে বলে দাবি করেছে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের তদন্ত কমিটি।
কমিটি জানায়, খনিতে এক দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন কয়লা চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। কিন’ মামলা চলাকালীন অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দিতে জ্বালানি বিভাগ চুরি যাওয়া কয়লাকে ‘সিস্টেম লস’ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। এমন এক পরিসি’তিতে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-র্বনী মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অভিযোগ অনুসন্ধান ও গবেষণা কমিশন এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রধান সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বড় পুকুরিয়ায় যে ঘটনা ঘটেছে, তাকে দুর্নীতি বললে কম বলা হবে। এটি আসলে পুকুরচুরি ছাড়া আর কিছু নয়। যে কাজটি করা উচিত ছিল জ্বালানি বিভাগের, সেটি নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এখন সরকারের উচিত এই দুর্বৃত্তদের ছাড় না দেওয়া। তিনি বলেন, গোজামিল দিয়ে মানুষকে বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করছে। জাতীয় সম্পদ যারা চুরি করে, আর যারা এর বিচার করেন না, সেটাও বড় অন্যায়।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এই কমিশনের তদন্তের সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত ছিল। আমরা আমাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে হস্তান্তর করবো। তারপর সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা সরকারের ব্যাপার। আমাদের কাজটুকু আমরা করে দিয়েছি। প্রতিবেদনে বলা হয়, উৎপাদনের শুর্ব থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই অবধি বিসিএমসিএল চুক্তিতে গ্রহণযোগ্য ৫ দশমিক ১ শতাংশ ময়েশ্চার (পানি) ধরে ১০১ দশমিক ৬৬ লাখ মেট্রিক টন কয়লার বিল পরিশোধ করা হয়। একই পরিমাণ কয়লা চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে প্রাপ্ত কলের পরিমাণ হিসেবে দেখানো হয়। কিন’ বাস্তবে কয়লার গড়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ ময়েশ্চার ছিল। এর অর্থ বিসিএমসিএল কর্তৃক গৃহীত কয়লার পরিমাণ ১০১ দশমিক ৬৬ লাখ টনের বেশি। কিন’ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ ময়েশ্চারে গৃহীত কয়লার পরিমাণের কোনো রেকর্ড নেই।
ক্যাবের ওই কমিশনের হিসাবে, ১০ দশমিক ৫ শতাংশ ময়েশ্চারে বিসিএমসিএল কর্তৃক প্রাপ্ত কয়লার পরিমাণ ১০৭ দশমিক ৩১ লাখ টন। যা বিসিএমসিএল কর্তৃক রেকর্ডভুক্ত কলার চেয়ে বেশি। এ প্রতিষ্ঠান কয়লার ব্যবহার বিক্রি করে ১০০ দশমিক ২২ লাখ মেট্রিক টন। সে অনুযায়ী ঘাটতি দেখায় ১ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন। কিন’ কমিশনের হিসেবে একটি ৭ দশমিক শূন্য ৯ লাখ টন। পেট্রোবাংলা প্রস্তাব অনুসারে, কয়লার হিসাবে সিস্টেম লস গড়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ দশমিক ৬১ লাখ টন ধরে নিয়েও কয়লার ঘাটতি অথবা আত্মসাৎ ৫ দশমিক ৪৮ লাখ টন।
সংবাদ সম্মেলনে স’পতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, তদন্ত করে দেখা যায় মামলার বাদী বিসিএমসিএল নিজেই কলা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের পক্ষে ন্যায় এবং মামলাটি প্রহসনে পরিণত করে। যা হওয়ার নয় ও সামঞ্জস্যহীন। যা কমিশনের বিবেচনায় অসঙ্গতিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ও তদন্ত কমিটির সদস্য শামসুল আলম বলেন, এর আগেও ৩০০ টন কয়লা চুরির একটি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটিও একইভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় চলা প্রশাসনিক তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, কেবলমাত্র সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, পরিচালনা বোর্ড, পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ ব্যর্থ হয়েছে। দুদকের অভিযোগ পত্রে বিসিএমসিএল’র সাত জন এমডিসহ ২৩ জন অভিযুক্ত। ক্যাবের কমিশন মনে করে, ২৩ জনের সঙ্গে পেট্রোবাংলা, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযোগভুক্ত হবেন। তারা এর দায় এড়াতে পারেন না।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটির সদস্য বদর্বল ইমাম বলেন, পেট্রোবাংলার প্রস্তাব মতে, কয়লা সরবরাহের সিস্টেম লস ১ দশমিক ৫ শতাংশ ধরে নিলেও আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সুশান্ত কুমার দাস তদন্তের প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে অধ্যাপক বদর্বল ইমাম, অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন।

শর্টলিংকঃ