বড়াইগ্রামে মহাসড়ক সংস্কারে ধীরগতি, জনদুর্ভোগ চরমে

এফএনএস: উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চ-লের যোগাযোগের গুর্বত্বপূর্ণ রাস্তা নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাজার এলাকায় বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তার বেহাল দশার কারণে তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ থেকে শুর্ব করে স’ানীয়রা। রাস্তার সংস্কার কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে হওয়ায় সব সময় ধুলোবালিতে নাভিশ্বাস উঠেছে স’ানীদের পাশাপাশি যাত্রীসাধারণের। মহাসড়কে সংস্কারাধীন স’ানটি চলা-চলের প্রায় অযোগ্য হলেও দূরপালৱার বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ছোট-বড় যান-বাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ স্বল্প পরিমাণ রাস্তার সংস্কার কাজের অত্যন্ত ধীরগতিতে ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করেছেন স’ানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ভোগান্তির শিকার শত শত মানুষ। তবে বিষফোঁড়ায় পরিণত হওয়া এ রাস্তার সংস্কার কাজ দ্র্বত শেষ করতে ব্যবস’া নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সওজ বিভাগ।
বনপাড়া হাইওয়ে থানা সুত্রে জানা যায়, পাবনার র্বপপুরে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের পাথরসহ ভারী মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহার হয় এ মহাসড়কটি। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার হালকা, মাঝারি ও ভারী যানবাহন নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া বাজার অতিক্রম করে। স’ানীয় ৪টি কলেজসহ ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী এই পথে চলাচল করে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, কয়েক বছর আগে সড়কটিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হলে যান চলাচল ঠিক রাখতে চার মাস আগে সওজ ওই অংশে ইট বিছিয়ে দেয়। নভেম্বরে টেন্ডারের মাধ্যমে খুলনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ কাজ পায়। কিন’ তারা এখনও বনপাড়া পৌর শহরের গুর্বত্বপূর্ণ এই অংশে কাজ শুর্ব না করে ইট বিছিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ডিভাইডারের দুই পাশে কার্পেটিং উঠে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সেই খানাখন্দে দেয়া নিম্নমানের ইট যানবাহনের চাপে গুড়া হয়ে আবারো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ইটের গুড়া বাতাসে উড়ায় পথচারীরা নাক ঢেকে চলাচল করছেন। গর্তে যানবাহন আটকে গেলেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এদিকে, পুরনো ইট ভেঙ্গে গেলেও স’ায়ী সংস্কার না করে আবারো ইট দিয়ে জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তদারকির অভাব আর ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারীতায় এমন দুর্ভোগ পোহা-চ্ছেন তারা। বনপাড়ার ব্যবসায়ী জিএম শিমন বলেন, এতোটা গুর্বত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার না করে শুধু ইট বিছানো। নিম্ন মানের সেসব ইট ভেঙ্গে গেছে, কি যে দুর্ভোগ বলা কঠিন। ফল বিক্রেতা আবদুর রশিদ বলেন, মহাসড়কের পাশেই আমার দোকান। রাস্তায় গাড়ি চলায় সারাৰণ ধূলা ছিটে এসে ফলের গায়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টার-প্রাইজ কর্তৃপক্ষের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। বনপাড়া পৌর মেয়র কে এম জাকির হোসেন বলেন, পৌরসভার কাজ না হলেও আমরা পৌরবাসীর স্বার্থে ধূলা দূর করতে প্রতিদিন রাস্তায় পানি ছিটাচ্ছি। সওজের উচিত কাজটি যত দ্র্বত সম্ভব শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দেয়া। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নজেস রহমান বলেন, মহাসড়কটি পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার যেন কাজ দ্র্বত শুর্ব সে ব্যাপারে তদারকি করা হবে।

শর্টলিংকঃ