বড়াইগ্রামে ভারি বর্ষণে ভাসছে মাছ, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে শতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামার ভেসে গেছে গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে। এতে কয়েক কোটি টাকার মাছ বের হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাষিরা।

লাথুরিয়া গ্রামের মৎস্য চাষী, সরকার ফিসারিজ অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন সরকার জানান, তার প্রায় ১০ একর পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য চাষ করেন। সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে, নদী ও বিলের পানি বেড়ে, পুকুরের পাড় ভেসে গিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার মাছ পুকুর থেকে বের হয়ে গেছে।

বড়াইগ্রামের মৎস্য খামারি শেখ তোফাজ্জল হোসাইন জানান, তার প্রায় ছয় একর পুকুরে রুই, কাতলা, হাঙ্গরী, মৃগেলসহ সিলভার প্রজাতির আনুমানিক ১৯/২০ লাখ টাকার মাছ ছিল। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছচাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েকদিনের অতি বৃষ্টিতে পুকুরের পাড় ডুবে বিল ও পুকুরের পানি একাকার হয়ে গেছে। মাছগুলো বেরিয়ে গেছে বিলের পানিতে। এতে তিনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ব্যাংক-ঋণ পরিশোধ করা তার জন্য দুঃসাধ্য হবে। তার মতো অনেকেরই এ অবস্থা।

গুড়ুমশৈল, লক্ষীচামারী ও আটুয়া এলাকার সেলিম রেজা, দুলাল হোসেন, রজব আলী, জাহাঙ্গীর, মহিউদ্দিন, বাচ্চু ও আজাদ রহমান আক্ষেপ করে বলেন, খামার ভেসে গিয়ে এখন আমাদের মাথায় হাত, সরকার সুদৃষ্টি না দিলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব কিভাবে।

অতি বৃষ্টিতে বিভিন্ন পুকুর ও খামার ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোবাশ্বীর হোসেন বিপ্লব ঘুরে দেখেন উপজেলার গুড়ুমশৈল, লক্ষীচামারী, বড়াইগ্রাম, আগ্রান, পারকোল ও আটুয়া গ্রামের ডুবে যাওয়া পুকুর ও খামার।

তারা জানান, এটা একটা প্রাকৃতিক দূর্যোগ। এখানে মৎস্য অধিদপ্তরের কিছু করার নাই। যদিও এতে মৎস্যচাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বিল ও নদীতে।

কয়েকটি খামার পরিদর্শন শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বিল থেকে নিকটবর্তী মরা বড়াল নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায়, নদীর পানি চুলকাটি স্লুইস গেইট দিয়ে বিলে প্রবেশ করেছে। স্লুইস গেইটের একটি পাল্লা অকেজো থাকার কারণে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি অতিসত্ত্বর চুলকাটির ওই অকেজো স্লুইজ গেইটটি মেরামত করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতি বছরই এমন বিপর্যয় অবধারিত। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারিরা প্রণোদনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ