বড়াইগ্রামে কিশোরীসহ দাদিকে অ্যাসিড নিক্ষেপ

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে কিশোরীসহ দাদিকে অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী অনিল কুমার ও আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে। উপজেলার গুনাইহাটি গ্রামের তাপসের মেয়ে স্মৃতি (১৩) ও তার দাদি শেফালী রানীর (৫০)  শরীরে গভীর রাতে শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় আধা পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে।

স্মৃতির ফুফু ওমা রানী বলেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ স্মৃতি ও মায়ের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। পরে ঘরে আলো জ্বালিয়ে দেখি তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে পানি জাতীয় কিছু তরল পদার্থ ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে। যার কারণে শরীরের জ্বালা যন্ত্রনা হচ্ছে। টর্চলাইট নিয়ে ঘরের বাহিরে এসে রাস্তায় লাইট মারলে দেখতে পাই দুইজন লোক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তখন আমার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে ও তাদের পরামর্শে পুলিশকে জানানো হয়।

সকালে আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলেন, এগুলো অ্যাসিডের ক্ষত। তাদের শরীরে অ্যাসিড মারা হয়েছে। সেখানে তাৎক্ষণিক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

বড়াইগ্রাম থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন গুনাইহাটি গ্রামের মৃত খোকা দাসের পুত্র অনিল ও জফিরের পুত্র আইয়ুব আলী। স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্মৃতির বাবা জানান, অনিল কুমার, আমার বোন ওমা রানীকে এক বছর আগে রাস্তা-ঘাটে উত্তক্ত করার কারণে তার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা হয়। সেই মামলায় জামিন পেয়ে সম্প্রতি ছাড়া পেয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি দিচ্ছিল । ঘটনার রাতে মা ও স্মৃতি দুইজনই একই চৌকিতে ঘুমিয়ে ছিল।
স্থানীয় কাউন্সিলর জিয়াউল হকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি দুঃখজনক এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। ঘটনার পর থেকে অনিল ও আইয়ুব পলাতক রয়েছে।

বনপাড়া পৌর মেয়র কে.এম জাকির হোসেন শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বলেন, অ্যাসিড নিক্ষেপ গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা ঘটনাস্থলে এসে স্মৃতি ও তার দাদির সাথে দেখা করে আলাদাভাবে কথা বলেন ও খুব দ্রুতই অপরাধীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ