ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন ক‚পে গ্যাসের সন্ধান

সোনালী ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের শ্রীকাইলে নতুন ক‚পে গ্যাস পেয়েছে বাপেক্স। এর ফলে গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে প্রতিদিন আরও অন্তত ১২ মিলিয়ন ঘনফুট বেশি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার আশা করছে তারা।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর আবদুল হান্নান গতকাল বুধবার দুপুরে জ¦ালানি বিভাগকে জানান, ক‚পটিতে গ্যাসের চাপ ছিল ১৮৮০ পাউন্ড/ইঞ্চি (পিএসআই)। এখন ক‚পটি পরিষ্কার করার কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলেই ক‚পটি থেকে কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ নম্বর ক‚প থেকে গ্যাস উঠতে শুরু করে। কিন্তু তখন গ্যাসের সঙ্গে প্রচুর পানি উঠছিল। ফলে গ্যাস প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে অপেক্ষা করছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। গতকাল বুধবার দুপুরের পর থেকে পানি ওঠা কমে আসলে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে বাপেক্স অনেকটাই নিশ্চিত হয়। ২০১২ সালে শ্রীকাইলে গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দেয় এই সংস্থাটি। এখন চারটি ক‚পের তিনটি থেকে প্রতিদিন ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। নতুন ক‚পের গ্যাস যোগ হলে উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে প্রতিদিন ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস হবে। বাপেক্স গত ৬ আগস্ট নতুন এই উন্নয়ন ক‚প খনন শুরু করে।
শ্রীকাইল পূর্ব-১ গ্যাস প্রকল্পের খনন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মহসিন আলমের বরাতে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে এই ক‚পে গ্যাসের চাপ বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আরও পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রসেস প্ল্যান্টে এই গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বাপেক্স এর মহাব্যবস্থাপক (ভ‚-তত্ব) মো. আলমগীর হোসেন জানান, মাটির নিচে প্রায় তিন হাজার ৮০ মিটার গভীরে গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গ্যাসের রিজার্ভ পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এই ক‚প থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এটি মুজিববর্ষে দেশিয় কোম্পানি বাপেক্সএর পক্ষ থেকে জাতির জন্য উপহার। শ্রীকাইল পূর্ব-১ গ্যাস ক‚পটি খননে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তিন হাজার ৬৫ মিটার গভীরে এই গ্যাসস্তর পাওয়া গেছে। বর্তমানে যে প্রসেস প্লান্ট আছে তার মাধ্যমেই এই গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে বাপেক্স সূত্র জানায়।

শর্টলিংকঃ