ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবিরতা কাটার খবর নেই

শিক্ষানগরী রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও বেশ কিছু দিন এ অবস্থা চলবে বলে ধারণা করা যায়। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতাও দীর্ঘায়িত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ ছোট-বড় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রাজশাহী ছেড়ে গেছে। ফলে এখানকার অর্থনীতিতে মন্দা জেঁকে বসেছে। শিক্ষার্থীরাই রাজশাহীর প্রধান ক্রেতা-ভোক্তা। তাদের অনুপস্থিতিতে সবকিছু যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাজারে কেনাকাটা কমে গেছে। যানবাহনে যাত্রীও কম। ফলে আয় কমেছে ব্যবসায়ীদের, গাড়ি চালকদের। হোটেল-রেস্তরাঁগুলোও ক্রেতা সঙ্কটে। মেস ও শিক্ষার্থীদের বাসাগুলো খালি পড়ে থাকায় গৃহকর্মীদের হাতে কাজ নেই। দারুণ টানাটানিতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। এমন অবস্থা কাটার অপেক্ষায় আছে মানুষ।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে সুখবর পাওয়া যাচ্ছে না। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কথাই শোনা যাচ্ছে। সংক্রমণের গতি কিছুটা ধীর হলেও রোগী শনাক্তের হার এখনও বেশি। অন্যদিকে জনসংখ্যার অনুপাতে নমুনা পরীক্ষাও কম হচ্ছে। ফলে সন্দেহভাজন অনেকেই পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও ঢিলেঢালা হয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই কোথায়ও। এ অবস্থায় শীতের আগমণে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।

এমন অবস্থায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবার আশা করা কঠিন। বর্তমান স্থবির অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে আরও বেশ কিছুুদিন, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত মনে করা যায়। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে আর্থিক দুর্দশার পাশাপাশি জনদুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে সন্দেহ নেই।

ব্যক্তি পর্যায়ের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি তেমনি আর্থিক সামর্থ ধরে রাখার গুরুত্বও কম নয়। যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা কাটার সম্ভাবনা কম তাই সব ক্ষেত্রে হিসাব করে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ