ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় একটি মার্কেটের দোকান বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাজার কমিটির বিরুদ্ধে দোকান বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি ও একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে গত শনিবার সকালে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন বাজার কমিটির সভাপতি সাহেব আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, একটি প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে মার্কেটের দোকান নির্মাণ করতে যত টাকা খরচ হয়েছে তার চেয়েও বেশি টাকা আদায় করছেন সাহেব আলী ও আবদুস সাত্তার।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য সম্প্রতি নওদাপাড়া মার্কেট ভাঙা পড়ে। এতে সেখানকার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান-পাট হারান। সম্প্রতি বাজার কমিটি নওদাপাড়া এলাকাতেই সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করেন। ইটের-দেয়াল আর টিনের ছাউনি দিয়ে প্রায় ৭০টি দোকান নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করার সময়ই দোকান বরাদ্দ করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়। এখন নির্মাণ শেষে আবারও টাকা নিচ্ছেন তারা।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দোকান বরাদ্দ দিতে কারও কাছে ৮০ হাজার, কারও কাছে এক লাখ আবার কারও কাছে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যার কাছে যেমন পারছে টাকা আদায় করছে বাজার কমিটি। কাছের লোকদের কম টাকায় দোকান বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। অন্য ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা। অথচ এই দোকানে ব্যবসায়ীরা কতদিন থাকতে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে দোকানিরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার সকালে ব্যবসায়ীরা বাজার কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে এসবের প্রতিবাদ জানান। তখন কমিটির সভাপতি-সম্পাদক ব্যবসায়ীদের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ীরা বাজার কমিটির সম্পাদককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার বলেন, ব্যবসায়ীরা সারাজীবন মার্কেটে থাকবেন। দোকান বরাদ্দে কারও কাছ থেকেই বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে না। তারপরেও ব্যবসায়ীরা আমাকে মারধর করেছেন। এ ব্যাপারে আমি থানায় অভিযোগ করেছি।

শর্টলিংকঃ