বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত তানোরের কৃষক

সাইদ সাজু, তানোর: তানোরে বিলকুমারী বিলের পানি নিচে নামতে শুরু করায় কৃষকরা জমি চাষ করে বোরোর জমি তৈরি শুরু করেছেন। তানোরের কৃষকরা রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষে এখন আলু রোপণ ও বোরোর বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তানোরে বিলকুমারী বিলের ধারের জমি থেকে পানি নিচে নেমে যাওয়া ওইসব জমিতে কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বোরো বীজতলায় চারা তৈরি হলেই কৃষকরা লাগানো শুরু করবেন বলে জানান।

অপরদিকে উপরের জমিগুলো থেকে কৃষকরা রোপা আমন ধান কেটে শুরু করেছেন আলু রোপন। ফলে তানোর উপজেলার মাঠে মাঠে রাতদিন চলছে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ ও রোপা আমন কাটা-মাড়াই, অন্যদিকে চলছে আলু রোপন। সেই সাথে কিছু কিছু জমিতে বোরো চাষের জন্য বীজতলাও তৈরি করা হচ্ছে। ফলে কৃষি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তানোরের কৃষকরা।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর তানোরে ১৩ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিলের পানি নিচে নামতে শুরু করায় কৃষকরা বিলের জমিতে বোরো চাষের জন্য বীজতলা ফেলতে শুরু করেছেন। বীজতলা তৈরি হলে বোরো ধানের চাষ করা হবে।

গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করছেন। উপরের প্রায় বেশীর ভাগ জমিতে এখন আলু চাষ শুরু করেছেন চাষীরা। আলু তোলার পর ওইসব জমিতেও বোরো চাষ করা হবে।

কৃষকরা বলছেন, বিলের ধারের জমিগুলোতে একটু আগেই বোরো ধান রোপন করতে হয়, দেরি হলে ধান ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তানোর ছাঔড় গ্রামের আইয়ব আলী বলেন, বিলের ধারের জমিগুলোতে তারা বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করছেন।

অপরদিকে উপরের জমিতে শুরু করেছেন আলু চাষ। আলু তোলার পর ওইসব জমিতেও বোরো ধান চাষ করবেন কৃষকরা। তানোরের বীজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, তানোরে বিলের জমিতে বোরো চাষের জন্য কৃষকরা বীজ কিনতে শুরু করেছেন। ডিলাররা বলছেন, আলুবীজের দাম বাড়লেও বোরো বীজের দাম বাড়েনি, আগের মতই রয়েছে। তারা ন্যার্য মুল্যে বিক্রি করছেন বোরো বীজ।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, তানোর বিল কুমারী বিলের পানি নিচে নামতে শুরু করায় কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরি শুরু করেছেন। তবে, উপরের জমিতে কৃষকরা রোপা আমন ধান কেটে আলু রোপন করছেন। আলু তোলার পর ওইসব জমিতেও বোরো চাষ করা হবে। বীজ ও সারের সংকট হবেনা, সহজেই কৃষকরা বীজসহ সার পাচ্ছেন এবং পাবেন বলেও জানান তিনি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ