বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে কি?

করোনা পরিস্থিতি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল দশা প্রকাশ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নড়ে চড়ে বসলেও কাঙ্খিত পরিবর্তন এসেছে বলার সময় আসেনি। আর বেসরকারি চিকিৎসায় ভয়াবহ অবস্থার খবর এখনও আসছে। অবহেলা, অপচিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা পত্রিকার খবর হচ্ছে।

রাজশাহীসহ দেশের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে অবাধে চিকিৎসা বাণিজ্য চললেও দেখার কেউ নেই। সে সব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই। বেশিরভাগ হাসপাতাল-ক্লিনিকের লাইসেন্স না থাকায় সরকারের তালিকায় নাম নেই, কোনো নজরদারিও নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন এবং যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই চিকিৎসা বাণিজ্য করে যাচ্ছে দেশের ১১ হাজার ৯৪০ টি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদনই করেনি। ৯ হাজারের মতো হাসপাতাল-ক্লিনিকের কোনো কোনোটি আবেদন করে অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছে। আবার কোনো কোনোটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ এ সবগুলোই অবৈধ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তালিকা ধরে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সে ক্ষেত্রে জনবল সঙ্কট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জেলা সিভিল সার্জনদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়ার জন্য বলা হলেও অগ্রগতি সামান্যই দেখা যাচ্ছে।

সরকারি আইন অনুযায়ি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো হাসপাতাল-ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালানোর সুযোগ নেই। তারপরও দেশজুড়ে হাজার হাজার এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যেখানে অবাধে চিকিৎসা বাণিজ্য চলছে। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডাক্তারসহ প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার কথা বলেছেন। ফলে কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলে সমস্যা তৈরি হওয়ার কথাও বলেছেন তারা।

এমন অবস্থায় বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যে সহজ নয় সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছাড়া আশাবাদি হওয়া কঠিনই।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ