বীজ চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

  • 12
    Shares

ভাল ফসলের জন্য ভাল বীজ প্রয়োজন। ভাল বীজের জন্য প্রয়োজন বাড়তি পরিচর্যা। তাই বীজ উৎপাদনের খরচ বেশি। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) মূল্য কম দেয়ার কারণে বীজ সরবরাহকারী চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা চেক প্রত্যাখ্যান করে বীজের ন্যায্য মূল্য চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

এ বছর প্রতিকেজি বীজের উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ৪২ টাকা। অথচ বিএডিসি দাম দিচ্ছে ৩৮ টাকা। ক্ষতি এড়াতে চাষিরা প্রতি কেজি বীজের দাম ৪৮ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

নিয়ম অনুযায়ী বিএডিসি কৃষি বিপণন কর্মকর্তার মাধ্যমে বাজারে ধানের মূল্য জেনে তার সঙ্গে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে বীজের মূল্য নির্ধারণ করে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি চূড়ান্ত করে। এবারে যখন ধানের বাজার দর জানা হয়, তখন দাম ছিল কম, পরে দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত মূল্যে বীজ দিয়ে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করে বীজের মূল্য পুননির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। প্রস্তাব অনুমোদন হলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলেই মনে করেন তারা।

এবার রাজশাহী জোনের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৫ হাজার একর জমিতে উৎপাদিত প্রায় ২৯০ মেট্রিক টন বীজ সংগ্রহ করেছে বিএডিসি। দাম কম হওয়ায় চার জেলার ২ হাজার ৪২৪ জন চাষিই বিএডিসি প্রদত্ত চেক প্রত্যাখ্যান করেছেন। সমস্যার সমাধানে তারা মানববন্ধন করে বীজের ন্যায্য মূল্য দাবি করেছেন।

ভালো ফসলের উৎপাদন নিশ্চিত করতে বীজ চাষিদের স্বার্থ উপেক্ষার সুযোগ নেই। যেহেতু বাড়তি পরিচর্যায় খরচ বেশি পড়ে, তাই বীজের দামে ৩৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন করার পাশাপাশি বাজার দরের সঠিক হার নির্ধারণও জরুরি। চাষিদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়ে আর যাই হোক বীজ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। তাই বীজ চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই কাম্য।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ