বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রী ধর্ষণ, পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে কলেজছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিকে বাঁচাতে পুলিশ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের কারণে অভিযুক্ত যুবক ছাড় পেয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী।

ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী আদালতপাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে পাগলের মত ছুটে বেড়াচ্ছেন।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর অভিযোগ, বিয়ের করার কথা বলে গত ৫ আগস্ট নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকার কামরুজ্জামান দুলালের ছেলে ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মান্না ওই কলেজছাত্রীকে বন্ধুর বাসায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পরের দিন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু মামলায় পুলিশ ধর্ষণের তারিখ ৭ মাস পিছিয়ে দিয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি উল্লেখ করে।

এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসকও তার প্রতিবেদন তৈরীর দিন ইচ্ছেকৃতভাবে ৯ আগস্টের স্থলে ২৬ জুলাই উল্লেখ করেছেন। অথচ মামলা হয়েছে ৬ আগস্ট।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর আরও অভিযোগ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার কিছু বিষয় তদন্ত করতে রাজশাহী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেয়। আর এই তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই এর কর্মকর্তা আবজাল হোসেন। এই তদন্ত প্রতিবেদনেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন ধর্ষণের শিকার ওই কলেজছাত্রী।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, রবিবার (১১ অক্টোবর) মামলার শুনানী হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনটি শুনানিতে উপস্থাপিত হতে পারে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত আসামিকে বাঁচানোর সকল ব্যবস্থাই করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, গত ৫ আগস্ট নগরীর বেলদারপাড়ায় ধর্ষক মান্না আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শামীম নামে মান্নার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। আমাকে যে শামীমের বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বিষয়টির প্রমাণস্বরূপ শামীমের সঙ্গে কথা বলার একটি কলরেকর্ডও আমার কাছে রয়েছে। অথচ ‘পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে থেকে জানা গেছে- ধর্ষণের স্থান খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে বোয়ালিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রওশন আলম জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের একদিনের পরেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছি। আমার মৌখিক অভিযোগ পেয়েই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে। কিন্তু প্রভাবশালী আসামিকে বাঁচাতে পুলিশ ও চিকিৎসক ঘটনার তারিখ এবং ধর্ষণ প্রতিবেদন তৈরীর তারিখ পরিবর্তন করে দিয়েছে। এছাড়া আমাকে যেখানে ধর্ষণ করেছে সেই স্থানই নাকি পুলিশ খুঁজে পায়নি। যাতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, আসামিকে বাঁচানোর জন্য সকল ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

ধর্ষণ মামলার পক্ষের আইনজীবী হামিদুল হক জানান, পুলিশ ইচ্ছেকৃতভাবে আসামিকে বাঁচাতে এজাহারে সেই তারিখ পরিবর্তন করে সেখানে ১২ জানুয়ারির কথা উল্লেখ করেছে। কেননা ১২ জানুয়ারি আসামি মালেয়শিয়াতে ছিলো। এই ধরনের একটি পাসপোর্ট ও ভিসার কপিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় যে, পুলিশ মামলার তারিখ পরিবর্তন করেছে ধর্ষককে বাঁচানোর জন্যই।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআই কর্মকর্তা আবজাল হোসেন বলেন, মামলাটির কিছু বিষয় তদন্ত করতে আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সরেজমিনে তদন্ত করে সেটি যথাযথ স্থানে জমা দেয়া হয়েছে। মামলার কোনো বিষয়ে জানতে হলে থানার ওসি কিংবা তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে হবে।

বোয়ালিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রওশন আলম বলেন, মামলায় তারিখ পরিবর্তনের ঘটনাটি সঠিক নয়। আসামিকে বাঁচাতে তারিখ পরিবর্তনের অভিযোগও সঠিক নয়। বাদীর দেওয়া তথ্য মতেই মামলা এজাহারভূক্ত করা হয়েছে। কোনো বাড়তি তথ্য দেওয়া হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ছাত্রী অভিযুক্ত যুবকের বন্ধু শামীমের বাসায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমরা ওই বাসার মালিকের সঙ্গে কথা বলে ওই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক কফিল উদ্দিন বলেন, আলামত সংগ্রহের তারিখ ভুলবশঃত ২৬ জুলাই হয়েছে। সেটি সংশধোন করা যাবে। কিন্তু আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি সঠিক নয়।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ