বিশ্বে করোনামুক্ত ৪৮ লাখেরও বেশি মানুষ

  • 34
    Shares

অনলাইন ডেস্ক:

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বর্তমান বিশ্বের এক আতঙ্কের নাম। এ মহামারি স্থবির করে দিয়েছে সারা বিশ্বকে। বন্ধ হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যবসা। বিশ্বের কম বেশি সবগুলো দেশই তাদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ও মিটারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০ লাখ। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৬০৪ জন মানুষের। তবে আশার কথা হচ্ছে, এরইমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার হাজার ৫২১ জন।

জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, চীনে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ইতালি, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। দেশগুলোতে দিন দিন বাড়ছে সুস্থতার সংখ্যা। এছাড়া ব্রাজিলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার পাশাপাশি সুস্থতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ থেকে মোট আরোগ্য লাভ করাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চীনে ৭৮ হাজার ৪১৩ জন, জার্মানিতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯০০ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ জন, ব্রাজিলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ২২৬ জন, ইরানে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯১ জন।

ইতালিতে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন, তুর্কিতে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৪০ জন, রাশিয়ায় ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭১ জন, চিলিতে ২ লাখ ৫৬৯ জন, মেক্সিকোতে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৮৬ জন, ফ্রান্সে ৭৪ হাজার ৩৭২ জন, ভারতে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫২ জন, পেরুতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৬৭ জন।

এদিকে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে ইতালি, স্পেন, চীনকে পেছনে ফেলে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ৫৩ হাজার ৮০৯ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে করোনায় আমেরিকায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ২৩৮ জন।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয়তে ব্রাজিল। দেশটিতে করোনা সংক্রমণে সাড়ে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। ব্রাজিলে মৃত্যু হয়েছে ৫০ হাজার ৬০৮ জনের। দেশটিতে দ্রুত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে সুস্থতার সংখ্যা।

আরও পড়ুন: আক্রান্ত ৯০ লাখ ছাড়াল, মৃত্যু ৪ লাখ ৭০ হাজার

অক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয়তে আছে রাশিয়া। দেশটিতে করোনা সংক্রমণে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ১১১ জনের।

মৃত্যুর দিক থেকে তৃতীয়তে আছে যুক্তরাজ্যের নাম। ইউরোপের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৪২ হাজার ৬৩২ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৩৩১ জন।

আক্রান্তের সংখ্যায় পঞ্চমে ইউরোপের দেশ স্পেন। দেশটিতে করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৩২৩ জনের।

পেরুতে দিন দিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩৬ জন এবং মারা গেছেন ৮ হাজার ৪৫ জন।

ইউরোপের আরেকটি দেশ ইতালিতে করোনায় মারা গেছেন ৩৪ হাজার ৬৩৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ জন, ইরানে অক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৯৫২ জন এবং মারা গেছেন ৯ হাজার ৬২৩ জন।

ফ্রান্সে করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৭৭ জন এবং মৃত্যু ২৯ হাজার ৬৪০ জনের, জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৭৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৯৬২ জনের।

এদিকে কিছুদিন আগেও আক্রান্তের দিক থেকে সবার শীর্ষে থাকা দেশ চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশটিতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। চীনের মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ হাজার ৩৭৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের।

অন্যদিকে, আক্রান্তের দিক থেকে ৪ নম্বরে অবস্থান করছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৯১০ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭০৩ জনের।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ হাজার ৭৭ জন।

উল্লেখ্য, এই নতুন ভাইরাস মূলত ফুসফুসে বড় ধরণের সংক্রমণ ঘটায়। জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষ্মণ। নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো। এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক।

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ