বিলুপ্তির পথে শিলপাটার ব্যবহার

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহী পুঠিয়ায় একসময় শিলপাটার ব্যবসা রমরমা ছিল। আধুনিক প্রযুক্তি আসার কারণে শিলপাটার ব্যবহার বিলুপ্তি হতে চলেছে। বর্তমানে এই এলাকার শতশত শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে।
সারা পৃথিবীতে এবং দেশের ভেতর প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগায়, অতীত আমলের পুরাতন জিনিসপত্রগুলি বিলুপ্তির পথে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনই একটি জিনিস, যা আমাদের বাসাবাড়িতে একসময় সকলেই ব্যবহার করতে দেখা গেছে। কিন’ কালের বির্বতনে শিলপাটার ব্যবহার প্রায় বাসাবাড়িতে করতে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। আজ থেকে গত দশ বছর আগেও দেশের প্রতিটি বাসাবাড়িতে শিলপাটার ব্যবহারের প্রচলন চালু ছিল। এই পেশার সঙ্গে জড়িত শতশত শ্রমিক, মালিকরা বর্তমানে বেকার হয়ে আছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্যান্য পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এখনো যারা শিলপাটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন, তারা কোনো মতে জীবন যাপন করে বেঁচে রয়েছেন।
রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর বাজারে জহুর্বল ইসলামসহ ১০জন শিলপাটার ব্যবসা করত। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায়, এখনে বর্তমানে মাত্র ৩ জন শিলপাটার ব্যবসা করছে। জহুর্বল ইসলাম জানায়, আমি গত ১৯৯৮ যশোর জেলার নওপাড়ায় বেড়াতে যায়। সেখান থেকে শিলপাটা তৈরি ও ব্যবসা করার যাবতীয় কিছু শিখে আসি। এই এলাকায় তখন শিলপাটার ব্যবসা কেউ শুর্ব করেনি। আমার ব্যবসা দেখে, আলিম, ইব্রাহিম, আব্দুলা, মতিনসহ অনেকে শিলপাটার ব্যবসা করে। কারখানা গুলোতে প্রতিদিন প্রায় শতশত জন শ্রমিক শিলপাটার তৈরির কাজ করতো। রাজশাহী নাটোর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শিলপাটাগুলো বিক্রির জন্য পাঠানো হতো। ইব্রাহিম নামের শিবপুর বাজারের ব্যবসায়ী জানায়, প্রতিটি বাসাবাড়িতে বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি মাধ্যমে রান্না করার মশলা তৈরি করা হচ্ছে। দেশের ভেতর এখনও কিছু গ্রামঞ্চলে শিলপাটার ব্যবসা চালু আছে। তারপর বেশির ভাগ শ্রমিকরা অন্য পেশায় চলে গেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিলপাটার ব্যবসা থাকবে না। আমি এখনো ব্যবসাটি ধরে রেখেছি। কারণ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে কয়েক লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। শিবপুর বাজারের বালাইনাশক বিক্রেতা মাঞ্জুর রহমান বলেন, আগে এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিলপাটার ব্যবসায়ীরা এসে, ট্রাক ভর্তি করে শিলপাটা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যেত। শিলপাটার ব্যবসা এই এলাকার অর্থনৈতিক ব্যবস’াকে চাঙা করে রেখে ছিল। শ্রমিকরা একটু ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারত।

শর্টলিংকঃ