বিরোধিতা নয়, মোদিকে স্বাগত জানানো উচিত /ওবায়দুল কাদের

সোনালী ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অকৃত্রিম বন্ধু ও সর্বাত্মকভাবে সহায়তাকারী দেশ ভারত। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে বাংলাদেশে আসছেন। যারা বিরোধিতা করছেন তাদের উচিত মোদিকে স্বাগত জানানো।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনে বিরোধিতা করে যারা ¯েøাগান দিচ্ছেন তাদের নিয়ে সরকার বিব্রত নয়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করছেন। তবে সবার উচিত তা না করে মুজিববর্ষে অনারেবল গেস্ট হিসেবে মোদিকে স্বাগত জানানো। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর পরের দিন ১৮ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দু’দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। মোদির সফর যারা প্রতিহতের ঘোষণা দিচ্ছে তাদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে কাদের বলেন, তাদের সাথে কোন প্রকার সংঘাতের কারণ হয়নি। এটা তাদের রিঅ্যাকশন প্রকাশ করছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মতের লোকজন। এখানে রিলিজিয়াসলি বিষয়টি অনেকে দেখছে কাজেই এটা সব সময় ছিল আজও আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। কাজেই সম্পর্ক এর মধ্যেই এগিয়ে যাবে। প্রকাশ্যে এভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিহতের ডাক দেয়ায় সরকার বিব্রত কি না জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা মোটেই বিব্রত নই। আমরা মনে করি যারা এটা করছেন তাদের করা উচিত হচ্ছে না কারণ এটা মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো উচিত।
মোদির সফর নিয়ে যে প্রতিহতের ডাক দেয়া হচ্ছে এ নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, না, এটা নিয়ে তারা কোন কিছু বলেননি। তারা মনে করেন এটি ভালো সফর হবে এবং বাংলাদেশের জনগণ ৭১-এর বন্ধনকে স্মরণ করে ভালোভাবে নেবে। মোদি আসছেন মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। অতিথির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ ভালো ব্যবহার করবে, এটাই তারা আশা করে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগলে পাশের ঘরে আঁচ অবশ্যই যায়। আমাদের এখানে উদ্বেগ ছিল, প্রতিক্রিয়া ছিল। একটা বিষয় নিয়ে আনন্দিত যে বিষয়টি কমুনিয়াল দেখেননি মানুষ, মুসলমানরা যখন বিপদে পড়েছে অনেক হিন্দু মসজিদ রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছে। অবশ্যই এটা একটা হাইয়েস্ট লেভেলের একটা সফর ও অনুষ্ঠান। নিরাপত্তার বিষয়টা তো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে তিনি (মোদি) আসছেন, আমাদের সম্মানিত অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান মিত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে যোগ দিচ্ছেন। ১৮ তারিখে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে পিএম টু পিএম। হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কাদের বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প আছে ভারতের সঙ্গে, পার্সোনালি আমার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল, স্মৃতিতচারণও করেছি। ভারতের সঙ্গে যেসব সমস্যা সেগুলো নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের যে সুসম্পর্ক আছে তা আরও শক্তিশালী হবে। অনেক সমস্যার সামাধান হয়েছে, আরও কিছু সমস্যা রয়েছে তা সমাধানে অগ্রগতি হবে। এ ভিজিট সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হলে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর চ‚ড়ান্ত করতে গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। এরপর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ-ভারত : একটি প্রতিশ্রæতিবদ্ধ ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে শ্রিংলা বলেন, আসামে যে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) হালনাগাদ করা হয়েছে, সেই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরিই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ওই প্রক্রিয়ার কোনো প্রভাব থাকবে না।

শর্টলিংকঃ