বিধিনিষেধ শিথিলে সংক্রমণ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশ লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরোপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিল। আবার আমাদের দেশসহ কয়েকটি দেশে সাধারণ ছুটি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি সফলতার মুখ দেখেনি। জীবন ও জীবিকার তাগিদে এই দু’ধরনের দেশই বিধিনিষেধ শিথিল করে এখন বিপদের মুখে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।

ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ ছড়ানো ৪৫টি দেশের অবস্থা বিশ্লেষণে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গার্ডিয়ান পত্রিকা সংক্রমণের কারণ বিবেচনায় বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছে দেশগুলোকে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ‘বিধিনিষেধ শিথিলের পর সংক্রমণ বাড়ছে’ এমন দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই তালিকায় জার্মানি, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইজারল্যান্ডের পরই রয়েছে বাংলাদেশ।

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষে বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়ে বাংলাদেশে। বিশেষ করে বিদেশ ফেরতদের ও পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এটা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া শ্রমজীবী-কর্মজীবীদের পক্ষেও অনির্দিষ্টকাল ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। রোজার ঈদে শহুরে মানুষদের গ্রামে যাওয়া-আসা ছিল নিয়ন্ত্রণহীন। এভাবে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরই সংক্রমণ আগের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। এখন প্রতিদিন শনাক্ত হচ্ছেন তিন থেকে চার হাজার আর মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে ওঠানামা করছে।

এমন অবস্থায় রেডজোন ও লকডাউন নিয়ে সময় ক্ষেপণ এবং কোরবানীর গরু হাট ও ঈদ উপলক্ষে চলাচল পরিস্থিতি কোথায় নিয়ে যায় বলা কঠিন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমজীবী-কর্মজীবীদের জীবন-জীবিকা রক্ষার ব্যবস্থা নেয়াও কঠিন বলেই মেনে নেয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ ও কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া করোনা বিস্তার রোধে অগ্রগতি আশা করা যায় না এটা জোর দিয়েই বলা যায়। এর পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ও রোগী শনাক্ত কার্যক্রম জোরদার করা, স্বাস্থ্যবিধি ও পারস্পরিক দূরত্ব মেনে চলা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এসব সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছাড়াই বিধিনিষেধ শিথিলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে এতে সন্দেহ কি ?

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ