বিদেশ ফেরতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক

সোনালী ডেস্ক: যে কেউ বিশ্বের যেকোনও দেশ থেকে বাংলাদেশে এলে তাকে অবশ্যই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এজন্য ডিসি, টিএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, সিভিল সার্জন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের এ বিষয়ে খোঁজ রাখতে বলা হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের শনাক্ত করে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন ।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এই নির্দেশ অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সন্তান যেন একা ঘরের বাইরে বের না হয়। কারও জ¦র, সর্দি, কাশি থাকলে তা নিয়ে যেন বাইরে বের না হয়। সে যেন ঘরে থাকে। উল্লেখ্য বাংলাদেশে আরও তিনজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বিদেশ থেকে আসা সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুশাসন দেওয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান। সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সরকারি প্রোগ্রাম, ট্রেনিং বা সাধারণ লোকজন যেই (বিদেশ থেকে) আসুক, তাকে অবশ্যই ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে, এ বিষয়ে কারও ছাড় নেই, এটা স্পষ্ট। এটা ডিসি সিভিল সার্জন, এসপি, ইউএনও, মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বার, মসজিদের ইমামদের বলে দেয়া হয়েছে, তারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগুলো প্রচার করবেন এবং এনসিওর করবেন। যদি কেউ কোথাও এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করেন, তার বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন সচিব। মানিকগঞ্জে সৌদি ফেরত একজনকে গত রোববার ওই আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার গতকাল সোমবার দেশে ফিরেছেন। তাকে বলে দিয়েছি তুমি অবশ্যই ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকবে, এর মধ্যে অন্য অপশন নেই। যে কোনো কর্মকর্তা বা প্রাইভেট লোক হোক, যারাই বিদেশ থেকে আসবে, যে দেশ থেকেই আসবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। যদি তার কারণে, সে যেই হোক, কোনো কিছু ঘটে আইনানুগভাবে তাকে ফেইস করতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশ ফেরত কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিত ১৪ দিনের স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনের শর্ত ঠিকভাবে পালন করছেন না। অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলকে বর্ণিত আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে আইনের সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে বা নির্দেশনা না মানলে সর্বোচ্চ তিন মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকার শাস্তির বিধান রয়েছে। আর মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ মাসের কারাদÐ বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদÐ হতে পারে।

শর্টলিংকঃ