বিদেশফেরতরা ১৪ দিন ঘরে না থাকলে আইনি ব্যবস্থা

সোনালী ডেস্ক: জাতীয় রোগ তত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বিদেশ থেকে ফিরে আসা সবাইকেই ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, বিদেশফেরতরা ১৪ দিন ঘরে থাকুন। আমরা অনেক ক্ষেত্রে দেখছি তারা কোয়ারেইন্টাইনে থাকছেন না। আমরা অনুরোধ করেছি এতদিন। সরকারের সহানুভ‚তিশীল পদক্ষেপ তারা মানছেন না। সেক্ষেত্রে আমরা সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করতে পারি। কিন্তু আমরা শক্ত পদক্ষেপে যেতে চাই না। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বর্ধন জং রানাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, করোনায় আক্রান্তের পর যে দুই জন সুস্থ হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থ আরেকজন বাড়ি যাননি। কারণ তার পরিবারের একজন অসুস্থ এবং বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা সবাই কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সেজন্য তাকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। আর তৃতীয় একজনের শরীরে এখনও ভাইরাসের সংক্রমণ রয়ে গেছে। পরীক্ষায় এখন তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসেনি বলে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক। অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে আর কারও মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। আইইডিসিআর সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট আটজনকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে পাঁচজন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইতালিতে এর আগে দুজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস ধরা পড়েছিল। তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের চারজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন, তার অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, চীনের পরিস্থিতি অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু চীনের বাইরে বেশ কিছু দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ছোটদের বা যাদের বয়স কম তাদের মৃত্যুর হার কম। বৃদ্ধদের মৃত্যুর হার বেশি। তিনি বয়স্ক বা দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থতায় যারা ভুগছেন তাদের সতর্ক থাকার আহŸান জানান। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রবাসী সৌদি আরব যেতে চাইছেন, তাদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সনদ দরকার নেই বলে জানান অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। সে বৈঠকে তারা আমাদের এসব জানিয়েছেন। আইইডিসিআর পরিচালক আরও বলেন, সৌদি আরবের দূতাবাস থেকে আমাদের আরও জানানো হয়েছে, যারা এখন সৌদি আরবে যেতে চাইছেন, তারা যেন সরাসরি ফ্লাইটে সৌদি আরব যান। তাই আমরা সৌদি গমনের উদ্দেশে অপেক্ষমাণ প্রবাসীদের বলব, আপনারা ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে সৌদি আরবে যান। কোনোভাবে ট্রানজিট বা অন্য দেশ হয়ে যায়, এমন ফ্লাইটে যাবেন না। আর তা না করলে আপনাদের সমস্যা হতে পারে।
সেব্রিনা ফ্লোরা আরও বলেন, এরই মধ্যে কুয়েত ও কাতার তাদের ফ্লাইট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই সৌদি আরব সরাসরি ফ্লাইটে তাদের দেশে যাওয়ার জন্য বলছে। আর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ফ্লাইট বন্ধ বা করোনাভাইরাসের জন্য ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট থাকার পরও যারা যেতে পারছেন না, তাদের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে দেশগুলো জানিয়েছে।
এই কর্মকর্তা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে মোট ১৮৭ জনের। তবে নতুন করে কারও শরীরে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, নতুন করে কোনও রোগী নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের সঙ্গে চিকিৎসার কোনো সম্পর্ক নেই। নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত না হয়েও এ রোগটির লক্ষণ ও উপসর্গ দেখে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং টেলিভিশন টকশোতে বলা হচ্ছে, ঢাকার বাইরে করোনাভাইরাস টেস্টিং ফ্যাসিলিটি নেই। তারা বলতে চাইছে এটার খুব দরকার আছে, আসলে এটার কোনো দরকার নেই। তিনি বলেন, দেশে যে তিনজনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে তাদেরকে তিনি করোনা রোগী বলতে রাজি নন। তাদের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল। প্রথম দিন তাদের শরীরে একটু বেশি জ¦র ছিল। পরের দিনেই তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। ফলে কারও শরীরে যদি করোনার সংক্রমণ থাকে এবং রোগের লক্ষণ ও থাকে তাতে তাকে পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস নিশ্চিত করার দরকার নেই। অধিক সতর্কতা হিসেবে আমরা পরীক্ষা করি। দেশে কতজন আক্রান্ত হয়েছে তা জানতে পরীক্ষা চলছে। রোগতত্ত¡বিদ লক্ষণ ও উপসর্গ দেখেও চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।
ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা সারা দেশে এমন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছি, সন্দেহভাজন রোগী সম্পর্কে জানতে পারলে নিজেরা গিয়ে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহণ করতে পারবো। পরীক্ষা করার পর রোগীকে তা জানিয়ে দেব। পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আইইডিসিআরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে ক্যাপাসিটি আছে তার খুব কমই আমরা ব্যবহার করছি। প্রয়োজনে আইইডিসিআরের পাশে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), চট্টগ্রামে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও কক্সবাজারে পরীক্ষা করতে পারবো।

শর্টলিংকঃ