বিতর্কের পরও বহাল বোর্ড চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার: কলেজের অধ্যৰ থাকাকালে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে হয়েছিলেন ওএসডি। তারপর আবার পদায়ন করা হয় কলেজে। তবে এবার অধ্যৰ নয়, বিভাগীয় প্রধান। সেখানেও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। কিন’ প্রেষণে নিয়োগ পান রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিৰাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে। সেখানেও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোকবুল হোসেন নানা বিতর্কিত কর্মকা- করছেন। তারপরেও তিনি বহাল থাকছেন স্বপদে। এ নিয়ে ৰোভ দেখা দিয়েছে রাজশাহীর শিৰাবিদদের মধ্যে। তারা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করছেন।
ড. মোকবুল হোসেন সর্বশেষ বিতর্কের জন্ম দেন বিদেশ থেকে ফিরেও হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে। দুই সপ্তাহের কানাডা সফর শেষে গত ১১ মার্চ রাতে দেশে ফেরেন তিনি। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ পর্যন্ত তার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। কিন’ দেশে ফিরেই তিনি বসেন নিজ কার্যালয়ে। অংশ নেন আলোচনা সভা, কেক কাটা, ম্যুরাল উদ্বোধন এমনকি প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানেও।
এসব অনুষ্ঠানে তার সংস্পর্শে এসেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটনসহ জেলার ভিআইপি ব্যক্তিরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় স্বাস’্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে তিরষ্কার করা হয়েছে। আর গুর্বত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির এমন দায়িত্বহীন কাজের জন্য তার বির্বদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস’া নেয়ার দাবি উঠেছে।
শিৰাবোর্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্বহীনতার আরেকটি নমুনা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। শিৰক-শিৰার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতার জন্য বোর্ড থেকে প্রচার করা বোর্ডের একটি প্রচারপত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগকে কোডিভ-৯১ লেখা হয়েছে। নোটিশে তিনবার কোভিড-৯১ লেখা হয়েছে। হাসনাত রনি নামের এক ব্যক্তি সোমবার এর একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, রাজশাহী শিৰাবোর্ডে এসে কোভিড-১৯, ৯১ হয়ে গেছে। সচেতনতার চাপ আর কি! চেয়ারম্যানের স্বাৰর থাকা ওই প্রচারপত্রে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে ১৫টি উপায়ের কথা লেখা হয়েছে। ১৫ নম্বরে লেখা আছে, ‘নিজে নিরাপদ থাকুন, অপরকে নিরাপদ রাখুন’। কোয়ারেন্টাইন না মানার বিষয়টি উলেৱখ করে সরদার জুয়েল নামে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, ১৫ নম্বরটা পড়তে ভালো লাগলো। নিজেই ক’দিন আগে বিদেশ থেকে এসে মেয়র সাহেবের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চেয়ারম্যান হওয়ার কিছু দিন পরই অধ্যাপক মোকবুল নিয়ম ভেঙে বোর্ডের ছয় কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেন। গত ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযানে এই অনিয়ম ধরা পড়েছে। পদোন্নতি পাওয়া ছয় কর্মকর্তার প্রত্যেকে সপ্তম গ্রেডের কর্মকর্তা ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে ষষ্ঠ গ্রেড টপকে সরাসরি তাদের পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেন চেয়ারম্যান। বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত না হলেও গত ১৫ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের পদোন্নতির আদেশ জারি করেন তিনি। পরে এরপর গত ২৬ জানুয়ারি সই করার জন্য বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে বেতনশিট উপস’াপন করা হলে পদোন্নতির বিষয়টি জানাজানি হয়। বিধিসম্মতভাবে পদোন্নতি হয়নি বলে তিনি বেতনশিটে সই করেননি। তারপরেও স্বেচ্ছাচারিতা করে চেয়ারম্যান তার একক স্বাৰরেই বেতন দেন। এসব অনিয়ম ধরা পড়ার পর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় তার বির্বদ্ধে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক এ বিষয়ে ব্যবস’া নেয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুটি শিৰাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটির আরেকটির পরীৰা কেন্দ্র করার নিয়ম নেই। এর ফলে এক প্রতিষ্ঠান অন্যটির প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আবার একটি কেন্দ্রের পরীৰার্থীদের বেশি কড়াকড়ি করলে অপরটিও শুর্ব করে। কিন’ বোর্ড চেয়ারম্যান নগরীর কোর্ট কলেজ এবং শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজকে একে অপরের পরীৰা কেন্দ্র করেছেন। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটি অনুমোদনের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বির্বদ্ধে। এমন একটি ঘটনায় তাকে আদালতেও তলব করা হয়েছিল।
গতবছর অধ্যৰ কমিটি দাখিল না করলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী কলেজের গভর্নিং বডি অনুমোদন দিয়েছিলেন বোর্ড চেয়ারম্যান। এ নিয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান আদালতে মামলা করেন। এ মামলায় কলেজের নির্বাচিত সভাপতি মেসবাউল হক, শিৰাবোর্ড চেয়ারম্যান মোকবুল হোসেন এবং কলেজ পরিদর্শক হাবিবুর রহমানকে আসামি করা হয়। এ নিয়ে নথিপত্র নিয়ে স্বশরীরে হাজির হতে বোর্ড চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
রাজশাহীর শিৰকনেতারা জানিয়েছেন, রাজশাহী শিৰাবোর্ড মডেল কলেজের অধ্যৰ ছিলেন মোকবুল হোসেন। সেখানে তিনি পদ না থাকলেও টাকার বিনিময়ে শিৰক নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া শিৰার্থীদের ফলাফল ঘষামাজা করারও অভিযোগ ওঠে। তদন্তে এসবের সত্যতা পাওয়ায় তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছিল। পরে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে পদায়ন হয় তার। তবে এবার আর অধ্যৰ হতে পারেননি। হয়েছিলেন বাংলা বিভাগের প্রধান। সেখানও তার বির্বদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কিন’ তাকেই করা হয় বোর্ড চেয়ারম্যান। এ নিয়ে রাজশাহীর শিৰাবিদদের মধ্যে চরম ৰোভ দেখা দিয়েছে। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য বোর্ড চেয়ারম্যানের দ্র্বত অপসারণ দাবি করেছেন তারা।
এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিৰাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোকবুল হোসেন বলেন, ষড়যন্ত্র চলছে। তাই এসব কথা ছড়ানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা নেই। কোয়ারেন্টাইন না মানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যখন বিদেশ থেকে আসি তখন কোয়ারেন্টাইন নিয়ে এতো কড়াকড়ি ছিলো না। আর আমি কাজ না করলে গোটা বিভাগের শিৰকদের দুর্ভোগ হবে। সে জন্য কাজ করতেই বোর্ডে গিয়েছিলাম। কোভিড-১৯ এর নাম ভুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টা জানা নেই। এর দায় আমার নয়।

শর্টলিংকঃ