বাড়ছে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম

শিরিন সুলতানা কেয়া: বিশ^জুড়ে এখন আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। চীনের অনেক মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। চীন থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় দেশটি থেকে বাংলাদেশে আমদানি কমে এসেছে। আর আমদানি কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে বাজারে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে রাজশাহীর বাজারে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্সের দোকান ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চীন থেকেই সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাংলাদেশে আসে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের জন্য এখন আমদানি কমে এসেছে। ফলে পাইকারী বাজারে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ জন্য খুচরা বাজারেও পণ্যের দাম বেড়েছে। রাজশাহী মহানগরীতে চায়নার মোবাইল ফোন সামগ্রীর দাম ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সম্প্রতি।
এদিকে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বাড়তি দাম দিয়েই তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো কিনতে হচ্ছে। আবার আমদানি কমে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারাও পাইকারি বাজারে ঠিকমতো পণ্য কিনতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক মাসের মধ্যে বেশিরভাগ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে। সব ধরনের চায়না মোবাইলের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মোবাইল ফোনের কাভার আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তেমনি হেডফোনের দামও ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন তা যাচ্ছে না। দ্বিগুণ হয়ে গেছে সব ধরনের পেনড্রাইভের দাম।
এদিকে মোবাইল গøাসের দাম আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকা হলেও এখন দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা হয়েছে। ডাটা ক্যাবল ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। মোবাইলের ব্যাটারির দাম আগে ২৫০ টাকা থাকলেও এখন ৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ টাকা। স্মার্ট ব্যাটারির দাম ৩০০ টাকা থাকলেও এখন দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা হয়েছে।
এমনকি দাম বেড়েছে মোবাইল স্ট্যান্ডেরও। মোবাইল স্ট্যান্ডের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা থাকলেও হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বাদ নেই মোবাইল চার্জারও। ইলেকট্রনিক্স এই পণ্যেরও দাম বেড়েছে। মোবাইল চার্জার ৯০ থেকে শুরু করে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন আরও বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এছাড়াও দাম বেড়েছে পাওয়ার ব্যাংকের। এক মাস আগে দাম ৪০০ টাকা থাকলেও এখন বেড়ে হয়েছে ৫৫০ টাকা।
এগুলো ছাড়াও দাম বেড়েছে অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যর। চায়না এলইডি টিভির দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে বেড়েছে। এলইডি ২৪ ইঞ্চি টিভি আগে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাাকা। এলইডি ৩২ ইঞ্চি টিভি এখন ৯ হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছুদিন আগেও দাম ছিলো ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা।
দাম বেড়েছে রাইস কুকারেরও। আগে দাম ১ হাজার ১০০ টাকা হলেও দাম বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া দাম বেড়েছে বেøন্ডার মেশিনের। বেøন্ডার মেশিন ১ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে এর দাম বেড়েছে।
বেøন্ডার মেশিনের মতো দাম বেড়েছে গ্যাসের চুলা ও ইনডাকশান চুলার। গ্যাসের চুলা আগে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টকা পর্যন্ত। ইনডাকশান চুলার দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। কিছুদিন আগেও দাম ছিলো ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। প্রেসার কুকারের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকা। এমনকি দাম বেড়েছে ফানেরও। চীনের তৈরি হাইস্পিড ফ্যানের দাম ১৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৫০ টাকা।
নগরীর বিপুল টেলিকমের মালিক বিপুল হোসেন বলেন, মোবাইলসহ সব ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দামই বেড়েছে। আমরা ঢাকা থেকে কিনে আনি। পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, তাই আমাদেরও দাম বেশি দিয়ে পণ্য কিনে আনতে হচ্ছে। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি। সাহা ইলেকট্রনিক্সের মালিক সঞ্জয় সাহা বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দাম বেশি হয়েছে। চীন থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় দাম প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আমদানি স্বাভাবিক হলে আবার বাজারও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

শর্টলিংকঃ