বাল্যবিয়ের এমন পরিণতি আর কত?

  • 36
    Shares

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বিষহরা গ্রামে এক কিশোরী নববধূর হাতে খুন হয়েছেন তার সদ্য বিয়ে করা যুবক স্বামী। কিশোরীটি এখন খুনের দায়ে আটক। বাল্যবিয়ের এমন করুণ পরিণতিতে এখন সংশ্লিষ্ট সবাই ভুল স্বীকার করছেন। কিন্তু এজন্য চরম মূল্য দিতে হলো এই নব দম্পতিকে।

১৪ বছরের মেয়েটি ছিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। করোনার কারণে ঘরে বসে থাকায় তার খালা বিয়ে লাগান। নিজ গ্রামের ২৮ বছরের এক স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে। বয়সে ও শরীরে কিশোরী মেয়েটির দ্বিগুণ ছেলের সাথে বিয়েতে প্রথমে কেউ কেউ আপত্তি করলেও পরিস্থিতি বিচারে উভয় পক্ষই বিয়েতে রাজী হয়। মেয়ের বয়সের কারণে কাজি বিয়ে নিবন্ধন করেননি, কোনো দলিলও দেননি। সাদা কাগজে সব লিখে নিয়ে বিয়ে পড়িয়েছেন। এখন তিনিও ভুল স্বীকার করেছেন।

ভুল স্বীকার করেছেন মেয়ের বাবাও। বিশালদেহী দ্বিগুণ বয়সী ছেলে হলেও মেয়ে ভালো থাকবে ভেবে বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিশোরী মেয়েটির আপত্তি কানে তোলেননি। বিয়ের ক’দিন পরই দেখা দেয় দাম্পত্য কলহ। শরীরিক কারণে মেয়ের আপত্তি অগ্রাহ্য করে ছেলে মিলিত হতে চাইলে প্রথমে রাজী হয়নি। জোরাজুরিতে শর্ত দেয়। তার কথা মানলে সে স্বামীর দুই হাত বাঁধে। তারপর পাটের রশি গলায় পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে ছেলের। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে সব কিছু স্বীকার করেছে সে নির্বিকার চিত্তে।

বাল্যবিয়ের এমন পরিণতি সাধারণত দেখা যায় না। স্বামীর হাতে কিশোরী বধূ নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনাতেই সমাজ অভ্যস্ত। বাল্যবিয়ের এই করুণ পরিণতি আবারও সমাজের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কন্যাশিশুরা সংসার বোঝে না, দাম্পত্য বোঝে না। নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষায় যে কোনো পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় সে। বাধ্য করে এই সমাজ, সংসার, বাবা-মা-আত্মীয়-স্বজনেরা।

সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণে এখনও বাল্যবিয়ের হার ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার কারণে বাল্যবিয়ের সংখ্যা বেড়েছে। বৃদ্ধির হার জানা যায়নি। সেই সাথে বেড়েছে নারী নির্যাতনও। পরিবারের অর্থনৈতিক দুর্দশা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই নিরুপায় অভিভাবকরা চাপ কমাতে কন্যাশিশুর বিয়ে দিচ্ছেন। দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জন্ম হচ্ছে বেদনাদায়ক ঘটনার।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, বাল্যবিয়ের এমন পরিণতি আর কত ? কন্যাশিশুদের রক্ষার ব্যবস্থা কি কথামালাতেই আটকে থাকবে ?

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ