বালু কারবারিরা এতো বেপরোয়া কেন?

পদ্মা নদীর পাশেই রাজশাহী। তাই এখানে বালু কারবারিদের দৌরাত্ম্যের শেষ নেই। নিয়মের বাইরে গিয়ে বালু তুলতে তারা নদীকে মেরে ফেলার কাজেও পিছপা হন না। এ নিয়ে সচিত্র খবর দেখে হতবাক হতে হয়। মনে হয় এদের নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই!

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নদীর তীর থেকে দেড়-দুই হাজার মিটার দূরে নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু তুলতে হবে। অথচ এই নিয়মের তোয়াক্কাই করেন না ইজারাদাররা। তলদেশের পরিবর্তে নদীর ধার কেটেই তোলা হচ্ছে বালু। নদী পাড়ের মাটিও কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। বালু মহাল ইজারা নিয়ে মাটি কাটার সুযোগ না থাকলেও কে শোনে কার কথা?

আবার বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যেই নদী থেকে বালু তোলার ট্রাক চলাচলের জন্য রাস্তা বানিয়ে নদীর ভরাট করা হচ্ছে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। নদী সরে যাচ্ছে প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায়। পদ্মা নদীর রাজশাহী সীমায় বালুমহাল ইজারা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভেতর থেকে বালু তোলার অভিযোগও উঠেছে। ন

দীর কিনারা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় ভাঙনের আশঙ্কায় প্রশাসনে অভিযোগ দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বালু কারবারিদের দাপটে নদী তীরের মানুষের অসহায় অবস্থা। স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের কারও কারও সঙ্গেও খাতির বালু কারবারিদের।

এসব নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সচিত্র খবর প্রকাশিত হয়েছে একাধিকবার। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়। সাময়িক ব্যবস্থাও নেয়া হয়। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে আগের অবস্থা ফিরে আসতে দেরি হয় না।

তাইতো বেপরোয়া হতে বাধা নেই বালু কারবারিদের। তাদের লাগাম টেনে নদী রক্ষার ব্যবস্থা কে করবে ?

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ