বার্সাকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

  • 4
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বার্সা। বায়ার্ন তাদের আগুনে নির্দয়ভাবে বার্সাকে পুড়িতে ছারখার করে ইউরোপ সেরার লড়াই থেকে বিদায় করেছে।

শুক্রবার পর্তুগালের লিসবনের এস্তাদিও দো স্পোর্ট লিসবোন স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার-ফাইনালে বায়ার্নের হয়ে জোড়া গোল করেন টমাস মুলার ও ফিলিপে কৌতিনিয়ো। একটি করে গোল করেন রবের্ত লেভানদোভস্কি, সের্গে জিনাব্রি, ইভান পেরিসিচ ও জশুয়া কিমিচ।

আগের ম্যাচে নাপোলির বিপক্ষে দারুণ ফুটবল খেলা বার্সেলোনার জন্য গতকালের ম্যাচটা ছিল দুঃস্বপ্নের রাত। ফুটবল ইতিহাসে দলটিকে এমন করুণ চেহারায় খুব বেশি দেখা যায়নি। জার্মান চ্যাম্পিয়নদের কাছে রীতিমতো পাড়ার ক্লাবে পরিণত হয়ে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। বায়ার্নের গতি আর কৌশলের কাছে অসহায় ছিলো বার্সা। লিওনেল মেসি দাঁড়িয়ে থেকে শুধু দেখেছেন দলের ডিফেন্সের করুণ পরিনতি।

পর্তুগালের ম্যাচের শুরুটা হয়েছিলো দুর্দান্ত। চার মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় বায়ার্ন। লেভানডস্কির কাছ থেকে পাওয়া বল মুলারের বাম পায়ের শট বার্সা গোলরক্ষক টার স্টেগানকে পরাস্ত করলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জার্মান পাওয়ার হাউজ।

তবে এই লিড বেশিক্ষণ স্থাযী হয়নি। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই সমতায় ফেরে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। তবে এতে বায়ার্নের অবদান বেশি। বার্সার আক্রমণ রুখতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠান বায়ার্নের দাভিদ আলাভা। আত্মঘাতী গোলে বার্সা ১-১ সমতায় ফেরে।

ম্যাচের নবম মিনিটে লুইজ সুয়ারেজ গোলের সুযোগ নষ্ট না করলে বার্সা এগিয়ে যেতে পারতো। পরে মিনিটেই বার্সার আরও একটি আক্রমণ বিফলে যায়। বল গোলবারে লেগে ফিরে আসে।

তবে এরপর পর ম্যাচের চিত্রটা পাল্টে যায় মুহূর্তেই। বায়ার্নের গতিময় ফুটবলের কাছে বার্সার রক্ষণ হয়ে যায় পাড়ার ফুটবলের মতো। ২১-৩১ এই ১০ মিনিটের ঝড়েই নষ্ট হয়ে যায় বার্সার সেমিফাইনালের স্বপ্ন।

২০তম মিনিটে বল পায়ে ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। কিন্তু নয়ার বরাবর শট নিয়ে হাতছাড়া করেন সুযোগ। এরপর বলতে গেলে বার্সাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি, শুরু হয় বায়ার্নের একাধিপত্য।

২২তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বায়ার্ন। জিনাব্রির কাছ থেকে বল পাওয়া পেরিসিচকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যায়নি বার্সেলোনার কেউ। যথেষ্ট সময় পেয়ে বুলেট গতির কোনাকুনি শট নেন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার, বল মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের বুটে লেগে জালে জড়ায়।

২৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলো বায়ার্ন। বার্সা গোলরক্ষক স্টেগানের কল্যাণে রক্ষা পায় বার্সা। ২৬ মিনিটে আরও একটি সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন লেভানদস্কি। বার্সার রক্ষণের ভুলে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে বল পেয়ে যান এই পোলিশ স্ট্রাইকার। তার বাম পায়ের নেওয়া শটটি কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন স্টেগান।

২৭তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় বায়ার্ন। পেনাল্টি বক্সের ডান দিকে থেকে গোরেস্কার বাড়ানো বল খিপ্রগতিতে বার্সা ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ডান পায়ের টোকায় বল জালে পাঠান জিনাব্রি।

৩১ মিনিটে চতুর্থ সাফল্য পায় বায়ার্ন। কিমিচের কাছ থেকে বল পেয়ে পেনাল্টি বক্সে খানিক ভেতর থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান মুলার। প্রধমার্ধেই ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে এর আগে কখনও কোনো দল এতো আগে চার গোল হজম করেনি। প্রতিযোগিতাটিতে এই প্রথম বিরতিতে যাওয়ার আগে চারবার বল গেল বার্সেলোনার জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ানোর দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট করে বায়ার্ন। অন্যদিকে, ৫৭তম মিনিটে নিজেদের প্রথম সুযোগে ব্যবধান কমায় বার্সেলোনা। জর্দি আলবার কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ দক্ষতায় বায়ার্ন ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন সুয়ারেস।

খানিক পর আবার ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় বায়ার্ন। নেলসন সেমেদোকে এড়িয়ে আলফানসো ডেভিস বাইলাইন থেকে কাট ব্যাক করলে ছুটে গিয়ে জাল খুঁজে নেন কিমিচ।

ম্যাচের ৮২ থেকে ৮৯ মিনিটে আরও তিন গোল হজম করতে হয় বার্সাকে। ৮২ মিনিটে দলের হয়ে গোল করেন সবচেয়ে আলোয় থাকা বায়ার্নের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কি। আর ঘরের শত্রু বিভীষিকা হয়ে বার্সার কফিনে শেষ পেরেক দুটি ম্যাচের ৮৫ ও ৮৯ মিনিটে ঠোকেন ফিলিপে কুতিনহো। বদলি নেমে বুঝিয়ে দেন তার ভেতরে কত আগুন!

সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ী দল ম্যানচেস্টার সিটি অথবা অলিম্পিক লিঁও।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ