বাবলাবন বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ

  • 17
    Shares


শিরিন সুলতানা কেয়া: মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির এক গর্বিত ইতিহাস। লাল-সবুজের পতাকার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে ৩০ লাখ মানুষকে। এসব শহিদের অনেককেই হত্যা করা হয়েছে অত্যন্ত নারকীয়ভাবে। একসঙ্গে তাদের মরদেহ ফেলে দেয়া হয়েছিল এখানে-ওখানে। এমনই একটি বধ্যভূমি রাজশাহীর শহরের পদ্মাপাড়ের ‘বাবলাবন’।

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের ‘টি-গ্রোয়েন’ সংলগ্ন বাবলাবন বধ্যভূমিতে ১৭ বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ অজানা সংখ্যক মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয় একাত্তরের ২৫ নভেম্বর। এতোদিন সেখানে ছিল না কোন স্মৃতিসৌধ। শুধু একটি স্মৃতিফলকই সাক্ষ্য দিত সেই গণহত্যার। তবে এবার সেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ। রয়েছে সীমানা প্রাচীর এবং দৃষ্টিনন্দন ফটক।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। এ বছরেরই মার্চে কাজ শুরু হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। আজ ১৪ ডিসেম্বর (সোমবার) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

রাজশাহীর টি-গ্রোয়েনে দিনের বেলায় জমে ওঠে মুখরোচক খাবার ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। মানুষের সমাগম লেগেই থাকে। কিন্তু এসব মানুষের মধ্যে হাতে গোনা দু-চারজনই হয়তো জানতেন পদ্মাপাড়ের বধ্যভূমি এই বাবলাবনের কথা। বেশির ভাগই জানতেন না তারা যেখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তার পাশেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কত স্বাধীনতাকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এখন টি-গ্রোয়েনের ওপর দিয়ে হেঁটে গেলেই চোখে পড়বে বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভটি। তাদের নতুন করে জানার ইচ্ছে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। একজন আরেকজনের কাছে জানতে চাইছেন এখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কারণ। যারা ইতিহাস জানেন তারা অন্যকে জানাচ্ছেন। আর এতদিন পর হলেও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য খুশি মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরা।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাত্তরের বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা রাজশাহীতে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তার অন্যতম সাক্ষী পদ্মা পাড়ের টি-গ্রোয়েন সংলগ্ন এই বাবলাবন বধ্যভূমি। বিজয়ের পরপর ৩১ ডিসেম্বর রাজশাহীর পদ্মাচর শ্রীরামপুর এলাকার এই বধ্যভূমি থেকে একই দঁড়িতে বাঁধা ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। বধ্যভূমির বেশির ভাগ অংশ এখন পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। তারপরও সেখানে ছুটে যেতেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্বজনহারা মানুষ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ১৯৯৫ সালের ২৫ নভেম্বর বাবলাবন বধ্যভূমি স্মৃতি ফলকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শহিদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মীর আব্দুল কাইয়ুমের স্ত্রী অধ্যাপক মাসতুরা খানম। এরপর ২০১১ সালে এই বধ্যভূমিতে আবারও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথা জানানো হয়। অবশেষে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করল মন্ত্রণালয়।

এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগরজুড়ে ২৩টি বধ্যভূমি রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণের জন্য আমরা অনেক কথা বলেছি। কিন্তু আগের কোন সরকার সেগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য আমরা খুশি। আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। আশা করি, রাজশাহী শহরের অন্য বধ্যভূমিগুলোও যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ