বাঘার শামীম বেপারী হত্যায় গ্রেপ্তার ৩

সোনালী ডেস্ক: টাকা-পয়সা, মোবাইলফোন কিংবা সোনার অলংকার নয় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন ছিনতাই করতো তারা। কখনো যাত্রীবেশে, আবার কখনো বিয়ের জন্য গাড়ি ভাড়ার কথা বলে যানবাহন ছিনতাই করা হতো। ছিনতাইয়ের জন্য জখম কিংবা হত্যা করতেও পিছপা হতো না তারা। প্রথমে গন্তব্য ঠিক করে টার্গেট করা যানবাহন নিয়ে রওনা হতো, গন্তব্যে আগে থেকেই তাদের সহযোগীরা অপেক্ষায় থাকতো। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালককে আঘাত করে যানবাহন নিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যেতো ছিনতাইকারীরা। সর্বশেষ ১৩ ফেব্রæয়ারি আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়ার পালোয়ান পাড়াস্থ মোল্লা বাড়ির বাঁশঝাড় এলাকায় শামীম বেপারী বাবু (২৮) নামে এক পাঠাও চালককে খুন করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় অপরাধীরা। হত্যাকাÐের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর আশুলিয়া থানাধীন জামগড়াস্থ রুপায়ন মাঠ এলাকায় অভিযান চালান র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। অভিযানে হত্যাকাÐে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করেছে র‌্যাব।
গতকাল সোমবার দুপুরে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাÐে জড়িত মামুনুর রশিদ (২২), মাহবুবুর রহমান (২০) এবং মোমিন মিয়াকে (২০) গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোন ও হত্যাকারীর রক্তমাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হত্যাকাÐের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক আরও বলেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। অন্যান্য ছিনতাইকারীর মতো এরা টাকা-পয়সা, মোবাইলফোন, সোনার অলঙ্কার ছিনতাই করে না। তারা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন ছিনতাই করতো। হত্যাকাÐের ঘটনায় শামীমের বাবা মো. শাহিন বেপারী (৫৮) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর-৫২) দায়ের করেছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত শামীম বেপারী বাবু রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন চৌমুধিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পাঁচ ভাই ও বোনের মধ্যে সবার ছোট শামীম। সে খিলগাঁও থানাধীন মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় তার স্ত্রীসহ বসবাস করতো। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে শামীম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছিলেন। স¤প্রতি শামীম নিজে একটি মোটরসাইকেল কিনে পাঠাও অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের কাজ শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রামপুরার ফরাজি হাসপাতালের সামনে থেকে যাত্রী নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে গভীর রাতেও ভিকটিম বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ১৪ ফেব্রæয়ারি রাত ১১টার দিকে টেলিভিশন সংবাদের মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। র‌্যাব-১ এর সিও আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মামুনুর রশিদ জানিয়েছে, সে পেশায় একজন গার্মেন্টকর্মী। সে প্রায় ৫ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত ও চক্রটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। তার দেওয়া তথ্য মতে, ঘটনার আগের দিন রাতে সে ভিকটিমের মোটরসাইকেলে করে গাবতলী থেকে আশুলিয়া যায় এবং তাকে টার্গেট করে। পরদিন আবারও ভিকটিমকে নিয়ে আশুলিয়ায় নিয়ে মাহবুব ও মোমিনের সহায়তায় তাকে হত্যা করে। জিজ্ঞাসাবাদে মাহবুবুর রহমান জানিয়েছে, জামগড়া এলাকায় তার একটি চায়ের দোকান আছে। তার চায়ের দোকানে বসেই সব পরিকল্পনা হয়েছে। ঘটনার দিন ভিকটিমকে সেই প্রথম ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এছাড়া গ্রেফতার মোমিন মিয়া জানিয়েছে, সে পেশায় একজন গার্মেন্টকর্মী। প্রায় ১১ বছর ধরে আশুলিয়া এলাকায় একই চক্রের হয়ে ছিনতাই হওয়া গাড়ি বিক্রয়ের কাজ করতো সে। র‌্যাব-১ এর সিও আরও বলেন, চক্রটি পরিকল্পিতভাবে ছিনতাই করে আসছিল। শামীম কে হত্যার পর ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি তারা ভেঙে ফেলে এবং নিজেদের মোবাইলফোনও বন্ধ করে দেয়। জ্যাকেটে রক্ত লেগে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে খুলে ফেলে দেয় এবং হত্যাকাÐে ব্যবহৃত ছুরিটিও ঘটনাস্থলে ফেলে দেয় মাহবুব।

শর্টলিংকঃ