বাগাতিপাড়ায় শিক্ষার্থী শাহানাজের দৃষ্টিনন্দন নকশী কাঁথা

  • 31
    Shares

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় শাহানাজ নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সেলাই মেশিনে কম সময়ে দৃষ্টিনন্দন নকশী কাঁথা তৈরি করছেন। তিনি সাংসারিক কাজ ও লেখাপড়ার পাশাপাশি নকশী কাঁথা তৈরি করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।

পুঁজির যোগান পেতে প্রতিবেশী ও আত্মীয় থেকে ঋণ সহায়তা নিয়ে সীমিত পরিসরে চলছে তার কাজ। এ আত্মনির্ভরশীল শিক্ষার্থীকে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শাহানাজ বেগম শখের বশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি ব্লক বাটিকের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের নকশীযুক্ত ডাইস সংগ্রহ করেন। পরে দু’হাজার উনিশ সালের জানুয়ারি মাসে এক হাজার সাতশ’ টাকা পুঁজি নিয়ে শখের নকশী কাঁথা তৈরির কাজ শুরু করেন।

প্রথমে পুরাতন কাপড়ে রঙযুক্ত ডাইস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টি নন্দন ছাপ দেয়া হয়। এ ছাপগুলোর উপর নিপূণ হাতে সেলাই মেশিনে সেলাই দেন। আগ্রহীদের চাহিদা অনুযায়ী নানান ডিজাইনের নকশীকাঁথা তৈরি করেন। সাংসারিক কাজ ও লেখাপড়ার অবসরে তিনি কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করেন।

শাহানাজ বেগম বাগাতিপাড়া উপজেলার জুগিপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী এবং নাটোর জামহুরিয়া কামিল মাদ্রাসার অনার্স ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁদের বিয়ের বয়স দু’বছর। তাঁর স্বামী আতাউর রহমান একটি মসজিদের মোয়াজ্জেম।

কখনো লাল কখনো সাদা কাঁথার জমিনের উপর রঙিন সুতোতে ফুটিয়ে তোলা হয় সূক্ষ্ম নকশা। সুই সুতোর এফোঁড়-ওফোঁড়ে এক একটি নকশী কাঁথা যেন ফুটে ওঠে জীবন্ত প্রতিচ্ছবিতে।

শাহানাজ বেগমের কাঁথা সেলাইয়ের বাড়তি আয়ে ক্রমান্বয়ে অস্বচ্ছল সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসছে। প্রতি সপ্তাহে একটি নকশী কাঁথা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁর প্রতিমাসে নকশী কাঁথা থেকে বাড়তি আয় হয় ছয় হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকা। এ গ্রামের অসংখ্য মহিলা এ কাজে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

শাহনাজ বেগম জানান, গ্রাম্য এলাকায় পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি ও কাজের অর্ডার কম। অপরদিকে প্রচার ও টাকার অভাবে কাজের তেমন প্রসার ঘটেনি। সরকারি সহযোগিতায় বড় পরিসরে কাজ করতে পারলে ব্যাপক প্রসার ঘটানো সম্ভব। পাশের গ্রামের হাপসা খাতুন নকশীকাঁথা নেবার অর্ডার দিতে এসে এই কাজের ভুয়সী প্রসংশা করেন। তিনি বলেন, সেলাই মেশিনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরী নকশী কাঁথার কদর ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আখতার জানান, বাণিজ্যিক ভাবে সেলাই মেশিনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নকশী কাঁথা তৈরী করলে তৃণমূল পর্যায়ের নারী কারিগরদের সরকারি সেবার আওতায় আনাসহ উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থারও আশ্বাস দেন তিনি ।

সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রেজাউল করিম বলেন, ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এনে তাঁকে যদি আমরা বৃহৎ পরিসরে কাজ করাতে পারি, তবে সে উপজেলা ব্র্যান্ডিং হতে পারে।

 

সোনালী/এমই

 

শর্টলিংকঃ