- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

বাগমারায় ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে পাঁচ হাজার একর জমির ধান


বাগমারা প্রতিনিধি: গত এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় ভারি বর্ষণে বাগমারার নিম্নাঞ্চলের পাঁচ হাজার একর জমির রোপা আমন ও আউশ ধান তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় নিম্নাঞ্চলের ধান পুরোটাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো কৃষক গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া সবুজ ধান গাছ কেটে নিচ্ছেন। ফলে এ উপজেলায় এবার রোপা আমন ও আউশের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, চলতি মওসুমে বাগমারা উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌর এলাকায় রোপা আমন ও আউশ ধান চাষ হয়েছিলো ১২ হাজার ১ শ ৯৪ একর জমিতে। কিন্তু গত কয়েক দিনের একটানা ভারি বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকেরা বোরো ধানের বাম্পার ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছিল। বোরো ধানের মতো লাভবান হওয়ার আশা বুকে নিয়ে এ অঞ্চলের কৃষকেরা চলতি মওসুমে রোপা আমন ও আউশচাষে মাঠে নামেন। কৃষকেরা উচ্চ মূল্যে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে মাজরাপোকার আক্রমনসহ খেতের বিভিন্ন রোগ-বালাই দমন করেন। ফলে আবাদও ভাল হয়েছিলো।

কোনো এলাকায় ধান গাছে সবুজ শীষও বের হতে শুরু করেছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার রোপা, আমন ও আউশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত ছিলেন এ এলাকার কৃষক। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে একটানা ভারি বর্ষণে এ এলাকার নিম্নাঞ্চলের রোপা আমন ও আউশ ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের সেই আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

নরদাশ এলাকার মনোপাড়া গ্রামের কৃষক জাফর আলী জানান, এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছরের মতো এবারো কৃষকেরা বুকভরা আশা নিয়ে রোপা আমন ও আউশ চাষ করেছিলেন। কিন্তু ভরা মৌসুমেও সময় মত পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে আবাদ রক্ষা করা হয়েছিলো। এতে সার ও কীটনাশক খরচ ছাড়াও অতিরিক্ত সেচ খরচ গুনতে হয়েছে কৃষকদের। কিন্তু তারপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শেষ পর্যন্ত আবাদ রক্ষা করতে না পারায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।

জিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আইয়ূব আলী জানান, এবার তিনি ১০ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছিলেন। খেতের ফসলও ভালই হয়েছিল। তিনি বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্ত গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে বিলের নিচু এলাকায় পানি জমে গেছে। এতে তার প্রায় ৪ বিঘা জমির সবে মাত্র সবুজ শীষ বের হতে শুরু করতে না করতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তার খেতের সবুজ ধান গাছ কেটে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা রাজিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় রোপা আমন ও আউশচাষের লক্ষমাত্র ধরা হয়েছিলো ১৮ হাজার একর জমিতে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছু পরিমান কম জমিতে চাষ হয়েছে। তার উপর আবার গত এক সপ্তাহের একটানা ভারি বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের কিছু পরিমান জমির কচি ধান গাছ তলিয়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলে এবার উৎপাদন কিছুটা কমবে।

সোনালী/এমই