বাগমারায় তিন ফসলি জমিতে চলছে অবৈধ পুকুর খনন


ভবানীগঞ্জ প্রতিনিধি: স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বাগমারায় যশোর বিলে জোরপূর্বক জমি দখলের মাধ্যমে তিন ফসলি ধানি জমিতে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব।

সম্প্রতি বিলে ছোট বড় মিলে অন্তত: ৫০টি পুকুর খননের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। এসব পুকুর খনন কাজে এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী। তাদের পাহারা বসিয়ে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা অবাধে পুকুর খনন করে চলেছে এলাকার এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি। পুকুর খননের কারণে বিল এলাকার প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা কিছুটা লাভবান হলেও নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে চলেছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা।

ভুক্তভোগী কৃষক ও গোলালকান্দী ইউপির স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি ওই বিলে স্থানীয় প্রভাবশালী আজাদ রহমান ওরফে ভাটা আজাদ ১৮০ বিঘা জমি জবর দখলের মাধ্যমে পুকুর খননের কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও একই বিলে কাউসার ও দুলাল গং, এবাদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মহল প্রায় ৭শ বিঘা আবাদি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন অব্যাহত রাখছে। স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে এলাকার ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

সরজমিনে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের যশোর বিলে গেলে দেখা যায় পুকর খননের কাজে বিলটিতে প্রায় পঞ্চাশটির অধিক এস্কেভেটর ও ড্রেজার মেশিনে বসিয়ে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। অবৈধ পুকুর খননের কারণে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের জন্য গোলাকান্দি ইউপি সদস্য আবেদ আলী স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

জানা গেছে, পুকুর খনন বন্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে যে, জমির প্রকৃতি (শ্রেণি) পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু অবৈধ পুকুর খননকারিরা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ফসলি জমিতে চালিয়ে যাচ্ছে হরদম পুকুর খনন।

রামরামা গ্রামের আব্দুল মজিদ, আব্দুর রহমান, ছবির উদ্দীন, শাহজাহান আলী অভিযোগ করেন, তাদেরকে না জানিয়ে রাতারাতি জমি গুলো জবর দখলের মাধ্যমে পুকুর খনন করেছে প্রভাবশালীরা। বলতে গেলে তাদের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।

এলাকাবাসী জানান, বর্ষাকালে যশোর বিলের চারিদিকে প্রায় ৩শ থেকে ৪শ মৎস্যজীবী মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন তারা বেকার হয়ে পড়ায় এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহমেদ বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রয়োজন হলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ