বাগমারায় কবর থেকে গৃহবধূর লাশ তুলে ময়না তদন্ত

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারায় আকতার বানু (৪২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য দেখা দিযেছে। দাফনের ২০ দিন পর সোমবার দুপুরে তার মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়। তাকে হত্যার পর তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফনের অভিযোগে এনে মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশ মরদেহ তোলা হয়।
গত ১৮ ফেব্রæয়ারি আকতার বানুর মরদেহ দাফন করা হয়। তিনি বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের সাঁইধারা গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের স্ত্রী। বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রæয়ারি নিজ বাড়িতে আকতার বানুর মৃত্যু হয়। চার বছরের একটি ছেলে সন্তানসহ স্বামীর বাড়িতে থাকতেন তিনি। মৃত্যুর পরদিন সকাল ১০টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জানাজার খবর জানিয়ে স্বজনদের খবরও দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের একঘণ্টা আগেই সকাল ৯টায় আকতার বানুকে দাফন করা হয়। একারণে আকতার বানুর স্বজনরা নির্দিষ্ট সময়ে আসলেও দাফনে অংশ নিতে পারেননি। তারা সেখানে উপস্থিত হবার আগেই দাফন সম্পন্ন হওয়ায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর ২৫ ফেব্রæয়ারি আকতার বানুর ভাসুর (বরের বড়ভাই) আজিমুদ্দিনকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেন তার বোন একই গ্রামের বাসিন্দা হালিমা খাতুন। মামলায় আকতার বানুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হযেছে। মামলার পর আদালত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাগমারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
ওসি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের জন্য আদালত নির্দেশ দেন। নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসক বাগমারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মাহমুদ হাসানকে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরে কবর থেকে আকতার বানুর মরদেহ তোলার পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান। এরপর মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

শর্টলিংকঃ