বসন্ত দিনে ভালোবাসার উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার: পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস একদিন আগে-পরে এতো বছর উৎসবে ভাসতো নগরবাসী। তবে প্রিয় দিবস দুটি একই দিনে হওয়ায় দ্বিগুণ প্রাণচাঞ্চল্যে গতকাল শুক্রবার রাজশাহী হয়ে উঠেছিল উৎসবের নগরী। এ দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় তা উৎসবকে আরো উপভোগ্য করে তোলে।
সব বসয়ী মানুষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে দিনটি উদযাপন করেছেন। তবে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে উৎসবের আবহ দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি। এদিন মেয়েরা শাড়ি আর ছেলেরা পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়িয়েছেন এখানে-ওখানে। বসন্ত বরণ করতে বরাবরের মত এবারও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চারুকলা বিভাগ আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠান। উৎসাহ উদ্দীপনায় শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধু আর সহপাঠীদের নিয়ে সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন সেখানে। দেশসেরা রাজশাহী কলেজ থেকেও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. হবিবুর রহমান শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। এতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বাদ্য-বাজনার ছন্দে শোভাযাত্রাটি পুরো শহরে যেন জানান দেয় বসন্তের বার্তা। শোভাযাত্রাটি মহনগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার কলেজে গিয়ে শেষ হয়। বসন্তকে বরণ করতে নগরীর বঙ্গবন্ধু কলেজে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। কুষ্টিয়ার ‘লালন অ্যাকাডেমির’ শিল্পীরা বাউল গানে জমিয়ে তোলেন ফাগুনের এই দিনটিকে।
এদিকে একদিনে এ দুই উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন বিনোদন স্পটেও তরুণ-তরণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের ঢল নামে। মেয়েদের পরণে দেখা গেছে হলুদ রঙের শাড়ি, খোঁপায় গাঁদা ফুল, আবার কারও কারও খোঁপায় রঙিন ফুলের ব্যান্ড। ছেলেদের পরণে ছিলো হলুদ অথবা সফেদ পাঞ্জাবি। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে গিয়ে মোবাইল ফোন দিয়েই অনেককে ফটোসেশন সারতে দেখা গেছে। বন্ধুদের নিয়ে জটলা করে মোবাইলের ক্যামেরায় সেলফি তুলেও তা স্মৃতিবন্দি করেছেন অনেকে।
গতকাল সকাল থেকে রাজশাহীর শহিদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, জিয়া পার্ক, বড়কুঠি পদ্মাপাড়, টি-বাঁধ, পদ্মা গার্ডেনসহ অন্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়ে, কেউ প্রিয়তমা, কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন বাহনে ঘুরে বেড়িয়েছেন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত।

শর্টলিংকঃ